ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘খোলামনে’ কাজ করার গুরুত্বের কথা বলেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ও মনে করিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সভায় বক্তব্যকালে তিনি এমনটা বলেন।
পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঢাকা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো বাইরের কিংবা অভ্যন্তরীণ কারণকে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকিতে পরিণত হতে দিতে পারি না। পারস্পরিক বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যেকোনো বিষয়ে অভিন্ন সমাধান খুঁজে পেতে আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশ এই কনক্লেভকে একটি উন্মুক্ত আঞ্চলিকতাবাদচালিত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় সংস্থা হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যাশা করে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মূল্যবোধকে সমর্থন করে। সেই সঙ্গে উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সুরক্ষিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত মহাসাগরের মূল্যবোধ ও নীতিমালাকেও সমর্থন করে বাংলাদেশ। এজন্য আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে টেকসই উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবিক পদক্ষেপ এবং মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
বাংলাদেশ সিএসসির পাঁচটি স্তম্ভের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয় এবং এসব অগ্রাধিকারের মাধ্যমে সম্মিলিত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ সমৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে তাৎপর্য অনুধাবন করে বলে মন্তব্য করেন খলিলুর রহমান।
‘সম্প্রতি বাংলাদেশ ভুয়া ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের (মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন) হুমকির সম্মুখীন হয়েছে’ এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অঙ্গীকার হলো নিজস্ব সাইবারস্পেস, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রযুক্তিকে সুরক্ষিত রাখা। শুধু নাগরিকদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যই নয়, বরং এটিও নিশ্চিত করার জন্য যে, বাংলাদেশ থেকে কোনো কর্মকাণ্ড যেন আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য হুমকিস্বরূপ না হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তার উদ্বোধনী ভাষণের শুরুতেই সম্প্রতি দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। এ ছাড়া তিনি এই আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এবং ভারতের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য অজিত দোভালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সিএসসিতে যোগ দিতে উপদেষ্টার ভারতে যাওয়ার কথা ছিল গত বুধবার। কিন্তু এক দিন আগে মঙ্গলবার তিনি ভারতে যান। খলিলুর রহমান সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর দিল্লিতে পৌঁছলে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
