‘বড় ইনিংস খেলার মানসিকতা আসে ডমেস্টিক ক্রিকেট থেকে’

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৪ এএম

পঞ্জিকার পাতা হিসাব করলে ১৭ বছর, সময়ের হিসাবে একটা জীবনকাল। মোহাম্মদ আশরাফুল জাতীয় দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে এলেন ২০১৩ সালের গল টেস্টের পর। মাঝে ঘটে গেছে অনেক কিছু। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন নতুন ভূমিকার অভিজ্ঞতা। দেশ রূপান্তরের সামীউর রহমান ছিলেন সেখানে

আশরাফুল আপনি প্রথমবারের মতো জাতীয় দলকে কাছ থেকে দেখলেন। দুইটা টেস্টেও দেখলেন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের অনেক সেঞ্চুরির পরপর আউট হয়ে যাওয়ার রোগ অনেক পুরনো এবং এখনো আছে। এটাকে কীভাবে দেখেন এবং এটার নিরাময় কি?

আশরাফুল : প্রথমত আমার কাছে যেটা মনে হয়, যে আউটগুলো আপনারা বলছেন প্রত্যেকটাই ভালো বলে আউট হয়েছেন। প্রথম টেস্টে যদি আমরা দেখি যে, মুমিনুলের ৮০ রানে যে আউটটা চমৎকার একটা ডেলিভারি ছিল। এখানেও যদি মুমিনুলের প্রথম ইনিংসে আউটটা আমরা দেখি যে, কিছু করার ছিল না, কারণ তিনি সুইপ খেলেছিল, ইনসাইড এজ লেগে জুতায় লেগে আউট হয়েছেন। তো এ ধরনের আউট হলে আসলে কিছু বলার থাকে না। জয়ের যেটা আউট হয়েছে দ্বিতীয় ইনিংসে সেটাও বলটা নিচে নেমে গিয়েছিল, ভালো একটা বল ছিল। তো দুই টেস্টে আসলে দলের সঙ্গে থেকে আমার কাছে যেটা দেখে মনে হচ্ছে যে সবাই খুব অভিজ্ঞ এবং সবাই তাদের উইকেটটা যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রত্যেকটা বল যেভাবে আসলে খেলা উচিত সেভাবেই তারা খেলার চেষ্টা করছেন। তো আলহামদুলিল্লাহ আমার কাছে মনে হয় যে, যদি আমরা আমাদের ২৫ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাস দেখি যে, একটা টেস্ট ম্যাচ ভালো হওয়ার পরে কিন্তু যেই প্রতিপক্ষ হোক পরের টেস্ট ম্যাচে হয়তোবা আমরা ভেঙে পড়ি। তো আল্লাহর রহমতে তিনটা ইনিংসে কিন্তু আমাদের ব্যাটসম্যানরা ওই ওই জায়গা থেকে বের হয়ে এসেছে কনফিডেন্স। হ্যাঁ অনেকে হয়তোবা বলবে যে দুর্বল টিম, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে আপনি যদি তাদের বোলিং অ্যাটাক দেখেন, যাদের ওদের ফাস্ট বোলারের বল কিন্তু ১৪০ কিমিতেই বল করে এবং বামহাতি স্পিনারও খুব চমৎকার জায়গায় বল করেন। বোলিং ইউনিট কিন্তু তাদের খারাপ না, আমরা ভালো ব্যাটিং করেছি। যেহেতু আমাদের এক্সপেরিয়েন্স সবাই আমাদের প্লেয়াররা আপনি যদি দেখেন যে ব্যাটসম্যানরা সবাই অলমোস্ট ৫০ প্লাস ম্যাচ খেলার এক্সপেরিয়েন্স, সেই এক্সপেরিয়েন্সটা তারা এই দুইটা টেস্ট ম্যাচে এই দুইটা টেস্ট না আমি বলব যে আসলে লাস্ট তিন-চার বছর ধরে আমাদের টেস্ট টিম কিন্তু ভালো রেজাল্টই করে। যেখানে আমরা যাচ্ছি প্রথম টেস্টটা হয়তোবা আমরা ভালো খেলি। পরের টেস্টটা আমরা হয়তোবা ভালো করতে পারি না। আশা করব যে সামনের বছর আমাদের প্রায় অলমোস্ট ২০২৭ পর্যন্ত প্রায় ১৮টি টেস্ট ম্যাচ আছে। তো ওই ম্যাচগুলোতে আমরা প্লেয়াররা অলরেডি যাদের একটা গোল সেট করা আছে, ওই সেট ওইভাবেই আসলে তারা প্রিপারেশন নিচ্ছে এবং খেলছে।

ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বড় ইনিংস খেলার মানসিকতা কি তৈরি হয়েছে, না এখনো ঘাটতি আছে?

আশরাফুল : না আমি ওইটা মনে করি না। যেভাবে আপনি তিনটা ইনিংস আমি দেখেছি আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের একটা বড় প্রবলেম হয় যে আমাদের খেলাটা কিন্তু অনেক বড় আরকি। তিন মাস চার মাস পরপর হয়। ওই জায়গাটাতে আসলে প্লেয়ারদের অ্যাডজাস্টমেন্ট করাটাও একটু মুশকিল হয়ে যায়। আর আপনি জানেন যে লাস্ট তিন বছর ধরে আমরা ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ডিউক বলটা ইউজ করি। ওই জায়গায় কিন্তু আপনি দেখবেন যে একটা সিজনে মমিনুল ৩৯০ রান করেছেন কোনো সেঞ্চুরি ছাড়া। তো ডিউক বলে কিন্তু আসলে প্রত্যেকটা বলই চ্যালেঞ্জিং হয়। তো আমাদের প্লেয়াররা যদি সুযোগ হয় না তাদের যদি তারা আমার কাছে মনে হয় যে যে ডমেস্টিক ক্রিকেটে যদি আপনি বড় বড় ইনিংস খেলেন যখন আপনি ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ২০০, ৩০০ করবেন, তখন কিন্তু আপনি আশা করতে পারেন যে একটা টেস্ট ম্যাচে এসে আপনি ২০০, ৩০০ করবেন। জয় যেমন ১৭১ করেছে, এটা তার ক্যারিয়ার বেস্ট ইনিংস। তার আগে ক্যারিয়ার বেস্ট ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টেস্ট ম্যাচে যেটা ১৩৯ করেছিল। তো আপনি রাতারাতি এসেই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলার আশা করাটা আমাদের ঠিক হবে না। এই জিনিসগুলো আসলে ডমেস্টিক ক্রিকেট থেকে আসতে হবে। তখন আপনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে করতে পারবেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের প্লেয়াররা যেভাবে প্রিপারেশন নিচ্ছে এবং খেলছে...সামনের যত টেস্ট ম্যাচ দেখবেন বড় বড় ইনিংস দেখতে পারবেন আমাদের প্লেয়ারদের থেকে।

নতুন একটা ভূমিকাতে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এখানে অনেক প্লেয়ার আছে যাদের সঙ্গে আপনি একসময় টিমমেট ছিলেন। ওরা অনেকেই ইয়াং প্লেয়ার। তো তারা আপনাকে ব্যাটিং কোচ হিসেবে আপনার কনসালটেশনকে কীভাবে নিচ্ছে? আপনার গ্রহণযোগ্যতার মাত্রাটা কতটুকু বা আপনি কতটুকু স্বস্তি নিয়ে কাজ করতে পারছেন?

আশরাফুল : মুশফিকের অভিষেক হয়েছে আমার সামনে এবং মুমিনুলের টেস্ট ক্যাপটা আমিই পরিয়েছিলাম গলে, যখন তার অভিষেক হয়েছিল ২০১৩-তে। এ ছাড়া আর বাকি সবার সঙ্গে আমার ডমেস্টিকে হয়তোবা একই দলে কিছু কিছু টুর্নামেন্টে খেলেছিলাম। আর প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলা হয়েছে। তো আলহামদুলিল্লাহ সবাই খুব সুন্দর মতো আমাকে গ্রহণ করেছেন এবং আমিও আমার মতো চেষ্টা করছি যে আমার অভিজ্ঞতাগুলো তাদের সঙ্গে ভাগ করার। যেহেতু আসলে এই পর্যায়ে তো টেকনিক নিয়ে অত বেশি বদল করার কিছু নেই। জাস্ট এখানে মেন্টালি সাপোর্ট দেওয়াটা ইম্পর্টেন্ট যে আসলে একটা বল খেলার সময় রুটিনটা কেমন হওয়া উচিত। ওই জিনিসগুলোই যদি আপনি জাস্ট রিমাইন্ড করে দিতে পারেন, ওইটাই কিন্তু একটা প্লেয়ারের জন্য এনাফ। যেমন কেউ ৩০ থেকে ৫০ রানের মধ্যে আউট হয়ে যাচ্ছে পরে ৫০ এর পর ১০০-তে রূপান্তরের হারটা কেমন, যেমন শান্তর কনভারসন রেট যদি দেখেন যে ৫০ রান করার পর তার ১০০-তে রূপান্তরিত করার হার প্রায় ৬১ শতাংশ। তো এই জিনিসগুলো যদি আপনি জাস্ট একেকটা প্লেয়ারকে একটু রিমাইন্ড করে দিতে পারেন এই ছোটখাটো জিনিসগুলোই আসলে এই লেভেলে আমার কাছে মনে হয় যে, মেন্টালি যত আপনি ফ্রেশ রাখবেন, ফ্রি রাখবেন পারফর্ম করাটা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত