বিদেশের সম্পদেরও হিসাব দিতে হবে প্রার্থীর হলফনামায়

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১৫ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীদের দেশের সম্পদের পাশাপাশি বিদেশের সম্পদের হিসাবও দিতে হবে। আমরা সম্পদ বিবরণী চাচ্ছি, সেখানে বিদেশি সম্পদের হিসাব না দিলে অন্যায় হবে। পাশাপাশি অনুপার্জিত সম্পদ যাদের থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ গতকাল রবিবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে দুদকের বিভাগীয় কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

সিলেটে দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠানে যোগ দেন দুদক চেয়ারম্যান। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদকে কেবল দীর্ঘসূত্রতা নয়, দুর্নীতিও আছে। সরকারি যত প্রতিষ্ঠান আছে, সবার বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ রয়েছে। আমরা সেই বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এতে কিছুটা উপকার হচ্ছে।’

দুদক সমন্বিত সিলেট জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় গণশুনানি হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া গণশুনানিতে ৭৩টি অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হয়। এতে অভিযুক্ত-সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর লুটের ঘটনায় দুদকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে রাজনীতিবিদদের নাম আসা-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক প্রতিবেদনের পর অনুসন্ধান শুরু করি। এটা তো সত্য যে সাদাপাথর লুট হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা ফিরে এসেছে। কাজেই এখানে যারা জড়িত, তাদের নাম সকলে ভালো করেই জানেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনারা কী তাদের পার্লামেন্টে চান, নাকি চান না?’

দুদকের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে আবদুল মোমেন বলেন, ‘দুদকে আমার সহকর্মীরা অনেক দুর্নীতির তথ্য চাপা দেন, গণমাধ্যম তা করে না। দুদক বিচারকারী নয়। দুদকের দায়িত্ব মামলার তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করা। এর বিচার করবে আদালত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে কৃষি সম্পত্তি ৫ দশমিক ২১ একর দেখিয়েছেন। পরে দুদকের অনুসন্ধানে ২৯ একর জমির সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সময় দুদক বিষয়টি তদন্ত করে বের করলেও ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সঞ্চালনায় গণশুনানিতে দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী অভিযোগের বিষয়ে নানা নির্দেশনা দেন।

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বিশ্বজিৎ দাস নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিয়ান পদে কর্মরত শেখর দাস সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন। কিন্তু পরে চাকরি দেননি, টাকাও ফেরত দেননি।’ তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক চেয়ারম্যান সাময়িকভাবে অভিযুক্ত কর্মচারীকে বরখাস্তের আদেশ দেন। পরে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেন।

সিলেট পাসপোর্ট অধিদপ্তরে ঘুষ ছাড়া পাসপোর্ট তৈরি করা যায় না বলে অভিযোগ করেন জহুর আলী নামের দক্ষিণ সুরমার এক বাসিন্দা। পাশাপাশি পাসপোর্ট কার্যালয়ের আশপাশের কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে ঘুষ লেনদেন হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্যাসসংযোগ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। এ সব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় গণশুনানিতে।

গণশুনানিতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মাসুদ রানা, সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে দুদকের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহিম বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, দুর্নীতির যে প্রকোপ ঘটে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই তার অনেকাংশেই নির্মূল করা সম্ভব। তবে বাস্তবতা হলো দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সময়সাপেক্ষ কিংবা আদৌ নির্মূল করা সম্ভব কি না বলা মুশকিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত