প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, “একজন সুশিক্ষিত আইনজীবী কেবল তার ক্লায়েন্টের সম্পদই নয়, কার্যকর বিচার ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ।”
আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেছেন, “প্রচলিত আইনি অনুশীলনই যথেষ্ট নয়; একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনগণকেন্দ্রিক বিচারব্যবস্থা গড়তে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং নৈতিক সক্ষমতা অর্জন করা এখন অপরিহার্য।”
এ কথা তিনি বলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আয়োজনকৃত অনুষ্ঠানে, যেখানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আইনজীবীদের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি) প্রোগ্রাম এবং বার কাউন্সিলের ডিজিটাল বিএলডি উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আজ বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, “বাংলাদেশের আইনগত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বর্তমানে সুপরিকল্পিত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
সারা বিশ্বে আইন পেশায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, তথ্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মোকাবিলায় বাংলাদেশের আইনজীবীদেরও প্রস্তুত হতে হবে।”
তিনি বিচার বিভাগের রোডম্যাপ এবং বিচার বিভাগের সংস্কারে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ উল্লেখ করে বলেন, এই উদ্যোগ বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি করেছে।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আইনজীবীদের সিপিডি কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অপরিহার্য।
নিয়মিতভাবে তাদের জ্ঞান হালনাগাদ করলে যুক্তি-উপস্থাপনা উন্নত হয়, বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়, আদালতের সময় বাঁচে এবং আদালতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে বিচার বিলম্ব কমে।
একজন সুশিক্ষিত আইনজীবী কেবল তার ক্লায়েন্টের সম্পদই নয়, বরং একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ।”
তিনি আইনজীবীদের বিশেষায়িত আদালতে কাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, “সমসাময়িক ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। স্বাগত বক্তব্য দেন বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ কামাল হোসেন দিকদার।
