শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বাধা ভারত

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১৬ এএম

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তার বিরুদ্ধে এ রায় দিয়েছে। কিন্তু এ রায় কার্যকরের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, একসময় শেখ হাসিনা ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি একজন বিপ্লবী নেতার কন্যা। ১৯৭০-এর দশকে বাবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডই তার রাজনৈতিক উত্থানের পথ খুলে দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে শীর্ষে ওঠা শেখ হাসিনার সেই উত্থানের পর এসেছে নাটকীয় পতন। আর তা ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুতি এবং শেষ পর্যন্ত পালিয়ে ভারতে আত্মগোপন। এখন তার অনুপস্থিতিতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে যদি ভারত তাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন হাসিনা সরকারের পতন ঘটায়। ১৫ বছরের ক্রমবর্ধমান স্বৈরশাসনের পর গত বছরের আগস্টে তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারতে আশ্রয় নেন। এখন দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপড়েনের কেন্দ্রে রয়েছেন শেখ হাসিনা। কারণ বাংলাদেশ তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি বারবার করে চলেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা কঠোর হাতে দেশ শাসন করেন। একদিকে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মিডিয়া ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বাড়তে থাকে। ভারতের নিকট প্রতিবেশ হিসেবে তিনি দিল্লিকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা দেন, যা পাকিস্তান ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকা অঞ্চলে ভারতের জন্য বড় সুবিধা ছিল। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকে দমননীতি। সমালোচকরা সে সময় প্রায়ই অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ একদলীয় শাসনের দিকে এগোচ্ছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে হাসিনা শুধু ভারতের নিঃশর্ত সমর্থনের ওপরই ভরসা রাখতে পারতেন।

যদিও বহু আন্দোলন ও হত্যাচেষ্টার মধ্যেও হাসিনার ক্ষমতা টলেনি, কিন্তু গত বছরের শিক্ষার্থী আন্দোলন ছিল অন্যরকম। সরকারি চাকরির কোটা নিয়ে আন্দোলন দ্রুত দেশ জুড়ে বিক্ষোভে রূপ নেয়। সরকারের কঠোর দমন-পীড়নে জাতিসংঘের হিসাব মতে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়। ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় তার জীবনের আরেকটি চক্র সম্পূর্ণ করে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আবারও দেশটিতে নির্বাসনে যান তিনি। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতেই বিচার করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল : বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে উসকানি দেওয়া, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির আদেশ দেওয়া এবং ড্রোন, অস্ত্র, হেলিকপ্টার দিয়ে আন্দোলনে দমন-পীড়নের নির্দেশ। আদালত বলেছে, শিক্ষার্থীদের হত্যার আদেশ তিনি দিয়েছেন এবং এটি একেবারে স্পষ্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত