আমীর খসরু মাহমুদ

মেগা প্রকল্প নয়, মানুষের কল্যাণে বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবে বিএনপি

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৯ পিএম

মেগা প্রকল্পের চেয়ে মানুষের কল্যাণে বিনিয়োগকে বিএনপি বেশি গুরুত্ব দেবে উল্লেখ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা কোনো মেগা প্রজেক্টে যাব না। মানুষের আত্মকর্মসংস্থান, কর্মসংস্থান, বিদেশে চাকরির সুযোগ, এসবই আমাদের অগ্রাধিকার। নতুন প্রজন্ম লেখাপড়া করেও চাকরি পাচ্ছে না, এজন্য ১৮ মাসে ১ কোটি চাকরির ব্যবস্থা করাই হবে আমাদের প্রথম দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকালে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ব্যবস্থাপনায় এসএসসি ও এইচএসসি কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বিএনপি। এজন্য দলের প্রণীত বাজেটে সর্বাধিক বিনিয়োগ রাখা হবে এই দুই খাতে। আমাদের বাজেটের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হবে শিক্ষার জন্য। সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য। পরিবেশ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমাদের আরো অনেক কাজ আছে।

আমীর খসরু বলেন, লেখাপড়া ভালো করলে একটা স্বীকৃতির ব্যাপার আছে। স্বীকৃতিটা শুধু সামাজিক পর্যায়ে না, এখন রাজনৈতিক পর্যায়েও পৌঁছেছে। স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, যা এক দুই বছর আগেও ছিল না। মেধা আগামীর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিএনপির শিক্ষা ভাবনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, শিক্ষাটা কেমন হবে, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কেমন হবে, এসব বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, মিউজিক, নাটক থিয়েটারের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। নতুন বিশ্বে কীভাবে আমরা সম্পৃক্ত হবো, সেসব বিষয়ও আগামী দিনের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবর্তিত হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহবায়ক শওকত আজম খাজা ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেলের পরিচালনায় এতে মূখ্য আলোচক ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক ড. মওদুদ হোসাইন আলমগীর পাভেল। আলোচক ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশে অনেক ডাক্তার আছে, কিন্তু চাকরি নেই। অনেকেই ২০–৪০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছে। এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আগামী দিনে বিনা পয়সার চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি সেখানে অনেকের চাকরির সুযোগ তৈরি করা।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির সবচেয়ে বড় যে ঘোষণা, ১৮ মাসে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান। সারা বাংলাদেশে আমরা স্কিল সেন্টার করব। ছেলে মেয়েরা গ্রাম থেকে কল সেন্টার, ডাটা সেন্টারে কাজ করতে পারবে। অনেকে ঘরে বসে আচার বা পণ্য তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করছে, এটা আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে গ্রামে ইন্টারনেট পৌঁছে দেব।

ই কমার্সকে গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নকশিকাঁথা তৈরি করেও অনলাইনে বিক্রি করা সম্ভব হবে, শুধু বাংলাদেশে নয়, অ্যামাজন আলিবাবার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো জায়গায়। সেই ব্যবস্থাও বিএনপি করবে ইনশাল্লাহ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংবর্ধনা কমিটির আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট আবদুস সাত্তার, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহ আলমগীর, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসিতে ১ম স্থান অধিকারী মেহজাবিন আফরোজ আলম স্নেহা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে ১ম স্থান অধিকারী নিবিড় কর্মকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত