মাদারীপুরে মসজিদের সামনের সরকারি জায়গায় দখল

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম

মাদারীপুরে মসজিদের সামনের সরকারি জায়গা দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুসল­্লিরা। বুধবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুচিয়ামোড়া হাজী আমিরুন্নেছা জামে মসজিদের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

অভিযোগ রয়েছে—দুইবার সালিশ মেনে স্বাক্ষর করা হলেও বর্তমানে জায়গা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন হালিম মাতুব্বর (৭০), সুজাত মাতুব্বর, রাজীব মাতুব্বর ও রশিদ মাতুব্বরসহ পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী লুৎফর রহমান মোল্লা, মসজিদের দাতা সদস্য জালাল হোসেন মাতুব্বর, স্থানীয় মুসল্লি আবদুর রহমান শিকদার, চান মিয়া শিকদার, জয়নাল হাওলাদার, মামুন মাতুব্বর, নুরুল হক ফকির, তোফাজ্জল হাওলাদার, আবু সাইদ মুন্সী, হান্নান মাতুব্বর, সাওন মোল্লা, শাজাহান মাতুব্বর, দিদার মাতুব্বর প্রমুখ।

কুচিয়ামোড়া হাজী আমিরুন্নেছা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী লুৎফর রহমান মোল্লা জানান, মসজিদের চলাচলের রাস্তার পাশে সরকারি দুই শতাংশ জায়গায় একটি ডোবা ছিল। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহায়তায় মসজিদ তহবিলের অর্থ দিয়ে ডোবাটি ভরাট করা হয়। কিন্তু সেই জায়গার পাশেই বাড়ি থাকায় এখন জোরপূর্বক জায়গাটি দখলে নিয়ে ঘর তুলতে চাইছেন হালিম মাতুব্বর, সুজাত মাতুব্বর, রাজীব মাতুব্বর ও রশিদ মাতুব্বরের পরিবারের সদস্যরা।

এর আগেও দখলের চেষ্টা হলে দু’বার স্থানীয় চেয়ারম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশ ফাঁড়ির উপস্থিতিতে সালিশ হয়। তখন সবার সম্মতিতে মসজিদের পক্ষেই রায় দেওয়া হয় এবং স্ট্যাম্পে লিখিত সিদ্ধান্তে তারা স্বাক্ষর করেন। কিন্তু বর্তমানে তারা কোনো সিদ্ধান্তই মানছেন না।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবি—মসজিদের চলাচলের রাস্তা যেন উন্মুক্ত থাকে এবং ওই সরকারি জায়গা কেউ দখল করে ঘর তুলতে না পারে।”

দখলে অভিযুক্তদের দাবি, যে বাড়ির পাশে সরকারি জায়গা থাকে, তারাই তা ভোগ করতে পারেন—এ যুক্তিতে তারা রান্নাঘর তুলেছেন।

মসজিদের দাতা সদস্য জালাল হোসেন মাতুব্বর বলেন, “আমি মসজিদের জন্য ২৫ শতাংশ জায়গা দান করেছি। কিন্তু মসজিদে প্রবেশপথের পাশে তহবিলের অর্থে ভরাট করা সরকারি জায়গাটি কয়েকজন দখল করতে চাইছেন। তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেন। 

পরে পুলিশ ১০–১১ ফুট জায়গায় ঘর তোলার অনুমতি দেয়; তখন মুসল­্লিরাও তা মেনে নেন। কিন্তু তারা সেই সিদ্ধান্ত মানেননি। সরকারের প্রতি আমাদের দাবি—জায়গাটি যেন উন্মুক্ত রাখা হয় এবং কেউ যেন ঘর তুলতে না পারে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত