নীলফামারীতে গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর হত্যা: দুই ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৫ পিএম

নীলফামারীতে স্বামীপরিত্যক্ত এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আনোয়ারুল হক (৪০) ও ছামিউল ইসলাম (৩০) নামে দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। 

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়াউদ্দিন মাহমুদ এই রায় প্রদান করেন। 

দণ্ডপ্রাপ্ত আনোয়ারুল হক জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কাঙ্গালপাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে এবং ছামিউল ইসলাম একই গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর গ্রামের মৃত আবেদ আলী ও মমতাজ বেগমের ছোট মেয়ে আকলিমা খাতুন (২৫)-এর ২০১৪ সালে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া রসুলপুর গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয়। 

তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর আকলিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ করত। ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট আবারও ঝগড়া-বিবাদ হলে স্বামী শরিফুল আকলিমাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং ২০ আগস্ট তাকে তালাকনামা পাঠান। 

পরদিন ২১ আগস্ট সকাল থেকে আকলিমাকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পায়নি। এর একদিন পর ২২ আগস্ট সকালে বাড়ির উত্তর পাশের মৎস্যখামারের পেছনে আব্দুল মান্নানের জমিতে অবস্থিত ৩৩ হাজার ভোল্ট বৈদ্যুতিক টাওয়ারের নিচে আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহের পাশে একটি কাগজে লেখা পাওয়া যায়—‘আমার মৃত্যুর দায় কেউ না, আমি নিজে মরছি, আমার হাতে চিঠি লিখে’—যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। পরে ২৩ আগস্ট নিহত আকলিমার মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সৈয়দপুর থানা পুলিশ লাশের ময়নাতদন্ত শেষে আনোয়ারুল হক ও ছামিউল ইসলামকে আটক করে। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ শুনানির পর বিচারক দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন নূরুল জাকি ও আবু মো. সোয়েম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পিপি অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, দুই আসামি শিশু হৃদয় (১৫)সহ তিনজন মাদক সেবন করে ওই নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। 

আদালতে ১৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। দীর্ঘ শুনানির পর সাক্ষ্য–প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। শিশু হৃদয়ের বিচার শিশু আইনে চলমান রয়েছে। আসামিদের উপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষণা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এই রায়ে প্রমাণ হয়েছে-অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত