নরসিংদী যুবলীগ নেতার সাত কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করল দুদক

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:১৯ পিএম

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর প্রায় সাত কোটি টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ ক্রোক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

সোমবার দুপুরে দুদকের গাজীপুর সম্মিলিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিরচর এলাকায় আদালতের নির্দেশনায় দেলুর অবৈধ সম্পদ ক্রোক করা হয়। 

এসময় পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকীকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দেলোয়ার হোসেন দেলু পলাশ উপজেলার কাজিরচর গ্রামের মো. সুরুজ আলীর ছেলে এবং ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

দুদক জানায়, যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক মামলা করেন। 

তদন্তে জানা যায়, দেলু তার অবৈধ সম্পদের প্রায় ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার অংশ বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় দুদক আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করে। 

পরে নরসিংদীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর সম্পদ ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সংশ্লিষ্ট ভবনগুলো ক্রোক করা হয় এবং রিসিভারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ক্রোক করা সম্পদগুলো হলো-

পলাশের কাজিরচর গ্রামে ২৭ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ২ হাজার ৩০৪ বর্গফুটের তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার মূল্য ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৪ টাকা।

একই গ্রামে ৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ৩ হাজার ৬৫০ বর্গফুটের পাঁচতলা ভবন, যার মূল্য ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮ হাজার ২৫৭ টাকা।

মোট ৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০১ টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে।

অভিযানে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান, পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী, নরসিংদী জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সিনিয়র সদস্য হলধর দাসসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেলোয়ার ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হন। এরপর শীতলক্ষা নদীসহ আশপাশের কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। 

এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীও তৈরি করেন। দীর্ঘ সময়ে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পলায়নের পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী বলেন, “আদালতের নির্দেশনায় আমরা দুইটি ভবন ক্রোক করেছি এবং রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পদ বেহাত বা বিক্রি রোধে আমরা নজরদারি চালাব। ভবনের ভাড়াটিয়াদের দ্রুত অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত