বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশ সম্বন্ধে নেতিবাচক বার্তা ছড়ানো হচ্ছে

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪১ পিএম

আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ সম্বন্ধে নেতিবাচক বার্তা ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

গতকাল সোমবার পূর্বাচলের বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী আয়োজন করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশে নিরাপত্তার তেমন কোনো ঘাটতি নেই। তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ সম্পর্কে প্রায়ই ভুল তথ্য ছড়ানো হয়। যা অপ্রয়োজনীয় ভীতি তৈরি করে। কিন্তু আমাদের দেশে এমন বড় কোনো নিরাপত্তা ঘাটতি নেই যা মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘœ ঘটায়।’

এর আগে এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের একাংশ বাংলাদেশে আসছেন না। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশ সফর থেকে নিরুৎসাহিত করছে।

বিকেএমইএ সভাপতির এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এসব মন্তব্য করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সফরকারী বিদেশি ক্রেতারা তাদের নিজ নিজ দেশের জারি করা নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ বশিউদ্দীন বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব বাণিজ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে পণ্যকে বৈচিত্র্যময় করা, সরবরাহ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ, নির্মাতা, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী এবং উদ্ভাবকদের পরিকল্পনা শেয়ার, অর্থপূর্ণ আলোচনা, সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের দ্বার উন্মুক্ত করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিগগিরই স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ করতে চলেছে। এই মাইলফলক আমাদের অগ্রগতি তুলে ধরেছে, কিন্তু এটি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। আমরা বর্তমানে যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা এবং ছাড় ভোগ করছি তা ধীরে ধীরে হারাব।

তিনি আরও বলেন, এই রূপান্তর সফলভাবে মোকাবিলার জন্য, আমাদের পণ্য এবং রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দূরদর্শী বাণিজ্য নীতি গ্রহণে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে, গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো আয়োজন কেবল সময়োপযোগীই নয় এটি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জানা গেছে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরতে ঢাকায় প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’। গতকাল শুরু হয়ে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এক্সপোতে ১১টি বিদেশি কোম্পানিসহ মোট ১৬৫টি স্টল অংশ নিচ্ছে।

এবারের সোর্সিং এক্সপোতে বাংলাদেশের আটটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতের পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত