সিরিয়ায় হস্তক্ষেপে ইসরায়েলকে সতর্কতা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ এএম

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে সাম্প্রতিককালে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দখলদার দেশটির হামলা থেকে বাদ যায়নি যুদ্ধবিধ্বস্ত আরেক দেশ সিরিয়াও। স্বৈরশাসক আসাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসা অর্ন্তবর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে দিকে নজর দিয়েছে। এমন অবস্থায় সিরিয়ার অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ ও দেশটিকে অস্থিতিশীল না করতে ইসরায়েলকে সতর্কতা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার নিজের সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের একটি সুদৃঢ় ও আন্তরিক আলোচনা বজায় রাখা এবং সিরিয়া যাতে একটি সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সে পথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করাটা ইসরায়েলের জন্য খুবই জরুরি। এ পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গত বছরের ডিসেম্বরে স্বৈরাচার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেন ইসলামপন্থি আহমেদ আল শারা। আগে তাকে জঙ্গির তকমা দিলেও; সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা। গত নভেম্বরে শারা যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিক সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠক করেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, শারার পদক্ষেপে তিনি সন্তুষ্ট।

গত শুক্রবার দক্ষিণ সিরিয়ায় রাতের আঁধারে সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক যোদ্ধাকে আটক করতে যায় ইসরায়েলি সেনারা। তখন তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এরপর ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সেখানে বিমান হামলা চালায়। এতে শিশুসহ ১৩ জন নিহত হন। এ ঘটনার জেরে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এরপরই ইসরায়েলকে সতর্কতা দিয়ে পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সূত্রও জানিয়েছে, সিরিয়ার নতুন সরকার শত্রু হয়ে উঠবে এমন কিছু না করতে ইসরায়েলকে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েকশ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে সামরিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটি। এ ছাড়া সিরিয়ার গোলান মালভূমির আরও অংশ দখল করেছে তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত