খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ঠিকাদারের গাফিলতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে খুলনার গল্লামারী ময়ূর নদের ওপর ব্রিজ নির্মাণকাজ। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে লাখো মানুষ। তাই জনভোগান্তি সৃষ্টির প্রতিবাদে এবং নির্মাণকাজ চালুর দাবিতে আজ বুধবার বেলা ১১টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওই ব্রিজ চলাচল বন্ধ রেখে এক ঘণ্টার অচল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা খুলনাবাসী’।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় গল্লামারী ব্রিজের কাছে এক সংবাদ সম্মেলেন ঘোষণা দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহবুবুর রহমানসহ অন্য নেতারা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নগরীর গল্লামারী ময়ূর নদের ওপর আগের তৈরি একটি ব্রিজ ছিল। জনসংখ্যা ও যানবাহন বৃদ্ধির ফলে ২০১৬ সালে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ময়ূর নদ রক্ষা ও নৌযান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় না রেখে ব্রিজটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়েছিল। এ কারণে কয়েক বছরের মধ্যে ব্রিজটি ভেঙে ঢাকার হাতির ঝিলের আদলে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর সেখানে দুটি জোড়া সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যা ২০২০ সালের ১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন পায়। ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর নতুন ব্রিজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়। ৬৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা চুক্তিতে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) লিমিটেডকে কার্যাদেশ প্রদান করে সড়ক বিভাগ।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর পূর্বের ব্রিজটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। নতুন ব্রিজ নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় কাজের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় সময় বর্ধিত করা হয়। এ মেয়াদেও কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ।
এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় ব্রিজের কাজ। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ব্রিজের কাজ পুনরায় চালু না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়। যে কারণে বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসী ২০ এপ্রিল সড়ক ভবন ও তার সামনের সড়ক অবরোধ করে।
