কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণ বন্ধসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও পাহাড়ে অস্থায়ী সেনা ঘাঁটি স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ অবরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বাহারছড়ার আপামর ছাত্র-জনতার ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও এতে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু যায়েদ মো. নাজমুন নূরের আশ্বাসে সড়ক থেকে সরে যান আন্দোলনকারীরা।
ওসি বলেন, অপরাধ নির্মূলে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এটা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানেন। আপনাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি আমার নৈতিক সমর্থন রয়েছে। আমিও ছাত্রজীবন পেরিয়ে এসেছি, তরুণদের আবেগ, উন্মাদনা ও উৎকণ্ঠা আমি বুঝি। তবে যাদের অপহরণ করা হয়েছে বলা হচ্ছে, তাদের পরিবার এখনও থানায় লিখিতভাবে জানায়নি। আমি আজ সকালে নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, ঘটনাটি কিছুটা ভিন্ন মনে হচ্ছে।
এ সময় বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, আমাদের কোনো জনপ্রতিনিধি যদি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের ইউনিয়নে সমতল ভূমির তুলনায় পাহাড়ি এলাকা পাঁচগুণ বেশি। এসব পাহাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষ দোকানে আড্ডা দিতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত হচ্ছে। পাহাড় বড় হওয়ায় সেখানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আজকের এই ব্লকেড কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
এ কর্মসূচিতে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব উখিয়া-টেকনাফ (ডুসাট) সভাপতি জয়নাল আবেদীন ছয়টি দাবি তোলে ধরেন। তা হলো- ১. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিনা মুক্তিপণে অক্ষত অবস্থায় অপহৃত শিশু কিশোরদের ফেরত দিতে হবে। ২. অপহরণ চক্রের সাথে জড়িত স্থানীয় এজেন্ডদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ৩. অপহরণ চক্রের সাথে জড়িত এবং প্রশাসনের হাতে ধৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি আমৃত্যু কারাদণ্ড দিতে হবে। ৪. সপ্তাহব্যাপী পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান এবং সার্বক্ষণিক সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে। ৫. অপহরণ পরবর্তী প্রশাসনের নাটকীয় অভিযান এবং মুক্তিপণ দিয়ে উদ্ধার পরবর্তী ভিক্টিম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। ৬. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন ভিক্টিমদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলে দায়িত্বরত অফিসারসহ টেকনাফ মডেল থানার পুরো পুলিশ টিমকে অপসারণ করতে হবে। দক্ষ, চৌকস ও দেশপ্রেমিক ফোর্স নিয়োগ দিতে হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে এবং কিছু ক্যাম্পের তরুণীদের এনে দিনদুপুরে কচ্ছপিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, যা গণমাধ্যমে সেভাবে উঠে আসছে না। পুরো দেশবাসী টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনকে পর্যটন এলাকা হিসেবে জানলেও সন্ত্রাসীরা এখানকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ধ্বংস করে দিয়েছে।
