ক্যারিবিয়ান সাগরে সন্দেহভাজন একটি মাদকপাচারকারী নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযান নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) হওয়া এই হামলায় চারজনের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের নির্দেশে পরিচালিত এক অভিযানে।
মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় নরকো-ট্রাফিকিং রুটে চলছিল নৌকাটি। দাবি করা হয়, জাহাজটি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এতে অবৈধ মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল।
গত কয়েক মাসে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ৮০–এর বেশি সন্দেহভাজন পাচারকারীর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অভিযান চালিয়েছে। তবে ২ সেপ্টেম্বরের আরেক হামলার পর একই ধরনের নতুন ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় কংগ্রেসের দ্বিপক্ষীয় কমিটিগুলো পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওই দ্বিতীয় হামলার আদেশ ব্র্যাডলি নামের এক কর্মকর্তা দিয়েছিলেন। তিনি ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বলেন, তাকে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যাতে সবাইকে টার্গেট করার কথা বলা হয়।
এদিকে, হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম স্মিথ জানিয়েছেন, প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে—হামলার পর বেঁচে থাকা দুই ব্যক্তি নৌকার ভাঙা অংশে ভেসে ছিলেন, এবং পরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে তাদের মৃত্যু হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কলম্বিয়ার এক জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক মানবাধিকার সংস্থায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, আলেজান্দ্রো কারানজা নামের তাদের এক স্বজন ভুলক্রমে মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন অভিযানগুলোকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনের অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে কংগ্রেস এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো যুদ্ধ পরিচালনার অনুমোদন দেয়নি।
ঘটনার সময় ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বেড়ে গেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ তার সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
চিন্তায় চলে রোবোটিক বাহু