মস্তিষ্কে নিউরালিংকের চিপ বসানো প্রথম রোগীরা শুধু কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণেই আটকে নেই, নিজেদের চিন্তাভাবনার শক্তিতে তারা এখন রোবোটিক হাত-পাও নড়াতে পারছেন বলে দাবি করেছে ইলন মাস্কের কোম্পানিটি।
২০০৬ সালে এক দুর্ঘটনার ফলে ঘাড়ের নিচের অংশ সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গিয়েছিল রকি স্টাউটেনবার্গের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এ শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, মস্তিষ্কে বসানো ব্রেইন চিপের সুবিধা নিয়ে শুধু নিজের ভাবনা কাজে লাগিয়েই একটি রোবোটিক হাত নিজের মুখের দিকে নড়াতে পারছেন তিনি। এর আগে বিভিন্ন সহায়ক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতেন স্টাউটেনবার্গ, যার মধ্যে ছিল মুখ দিয়ে চালানো একটি কন্ট্রোলার, যার সাহায্যে তিনি ভিডিও গেমও খেলতে পারতেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইনডিপেনডেন্ট।
‘অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্কলেরোসিস’ বা এএলএসে আক্রান্ত আরেক অংশগ্রহণকারী নিক রে-ও নতুন এই সক্ষমতা পেয়েছেন। তিনি রোবোটিক হাত ব্যবহার করে একটি কাপ তুলে নিয়ে তা থেকে পানি পান করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নিউরালিংক লিখেছে, ‘আমাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশগ্রহণকারীরা এখন শুধু কম্পিউটার নয়, সহায়ক রোবোটিক হাতের মতো শারীরিক যন্ত্রও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিউরালিংকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন যন্ত্রের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।’
‘ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস’ চিপ প্রযুক্তির ট্রায়ালে অংশগ্রহণের আশা নিয়ে এরই মধ্যে ১০ হাজারেও বেশি মানুষ নিউরালিংকের ‘পেশেন্ট রেজিস্ট্রি’তে সাইনআপ করেছেন।
বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুধু সেসব মানুষের জন্য খোলা রেখেছে কোম্পানিটি, যারা স্পাইনাল কর্ডের আঘাত বা মোটর নিউরন রোগের মতো পক্ষাঘাতে ভুগছেন। তবে স্টার্টআপটির দাবি, ভবিষ্যতে তাদের এসব ব্রেইন চিপ শারীরিক কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, এমন লোকজনও নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও পাবেন।
মাস্ক বলেছেন, ভবিষ্যতে নিউরালিংকের বিভিন্ন ব্রেইন চিপের সংস্করণ ব্যবহারকারীদের মস্তিষ্কে সরাসরি গান শোনানোর সুবিধা দিতে পারে বা শুধু তাদের চিন্তা ব্যবহার করে অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করবে।
প্রযুক্তি জগতের এই ধনী ব্যক্তি দাবি করেছেন, মানুষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এক ‘ধরনের সহাবস্থান’ পেতে সাহায্য করবে এই ব্রেইন চিপ।
জুলাইয়ে এক অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেছিলেন, ‘বিষয়টি এমন পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে, যেখানে আপনি আপনার বিভিন্ন স্মৃতিকে আপলোড করতে পারবেন এবং নিজের এক সংরক্ষিত সংস্করণ তৈরি করতে পারবেন... তারপর তা রোবটের দেহে বা আপনার মূল স্বরের ক্লোনে ডাউনলোড করতে পারবেন। আমি এখানে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির আশ্রয় নিয়েছি এবং সেদিকেই যাচ্ছি..., তবে আমি সত্যিই মনে করি, এমন কিছু সম্ভব হবে, যা মানুষকে এক ধরনের অমরত্ব দিতে পারে।’
