ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ স্বপ্নে সূর্যাস্ত, দ্বিতীয় টেস্ট জয়ের দ্বারপ্রান্তে অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৮ পিএম

অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের অবস্থা ক্রমেই হতাশাজনক রূপ নিচ্ছে। ব্রিসবেনের গাব্বায় শনিবার তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হতে হতে ম্যাচ তো বটেই, সিরিজও অস্ট্রেলিয়ার দিকেই হেলে পড়েছে। দিনের আলো নিভে ফ্লাডলাইট জ্বলার পর যে ভরাডুবি ইংল্যান্ড দেখাল, তা সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের অন্যতম হতাশাজনক অধ্যায় হিসাবে ধরা যেতে পারে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড দিন শেষে ৬ উইকেটে ১৩৪—অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ৫১১ রানের জবাবে এখনো ৪৩ রানে পিছিয়ে। প্রতিপক্ষকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংঙে নামাতে তাদের আরও রান দরকার। 

অ্যাশেজের ১৪৭ বছরের ইতিহাসে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও সিরিজ জয়ের ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার। অর্থাৎ সম্ভাবনা গণিতের খাতায় থাকলেও মাঠের লড়াই বলছে—এটা প্রায় অলৌকিক কিছুই লাগবে। বিশেষ করে মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে সিরিজের শুরুতেই ইংল্যান্ড মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুর ছয় ওভারে আশার আলো দেখালেও সেটা বেশিক্ষণ টিকেনি। জ্যাক ক্রলি দারুণ ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলছিলেন, বেন ডাকেটও জোড়া শূন্যের দুঃস্বপ্ন কাটালেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় পতন। স্কট বোল্যান্ড নিচু লাফানো বলে ডাকেটকে বোল্ড করে ধসের সূচনা করেন। মাইকেল নেসার দুর্দান্ত দুই রিটার্ন ক্যাচে ওলি পোপ (২৩) এবং জ্যাক ক্রলিকে (৪৪) ফিরিয়ে দেন। সবচেয়ে বড় আঘাত আসে জো রুট আউট হওয়ার সময়। ক্লান্ত কভার ড্রাইভে স্টার্কের বলে এজ, রিভিউতে নিশ্চিত হয় আউট। এভাবে শুরুর সুবিধা হারিয়ে ইংল্যান্ড ১৩৪/৬-এ নেমে আসে। শুধু বেন স্টোকসই ছিলেন লড়াইয়ে, তার সঙ্গী উইল জ্যাকস। তবে অস্ট্রেলিয়া চাইবে দ্রুত শেষ করে টেস্ট জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলতে।

স্টার্কের অ্যাশেজ—গতি, সুইং, আর ব্যাটিংয়ে ধৈর্য

এই সিরিজ ইতোমধ্যেই হয়ে উঠছে “স্টার্কের অ্যাশেজ”। প্রথম তিন ইনিংসেই ১৬ উইকেট, গড় মাত্র ১২! শুধু বোলিং নয়, এদিন ব্যাটেও অসাধারণ অবদান—দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ব্যাট করে দলের স্কোর ৫১১-এ নিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় নতুন বলের দুপাশে ইংল্যান্ড কিছু সাফল্য পেলেও (নেসার ১৬, কেয়ারির আক্রমণাত্মক ৬৩), তা যথেষ্ট ছিল না। গাস অ্যাটকিনসন পান তার সিরিজের প্রথম উইকেট। তখন অস্ট্রেলিয়ার লিড ছিল ৮৪।
স্টার্ক-বোল্যান্ড নবম উইকেটে যোগ করেন ৭৫ রান—২৭ ওভারের দীর্ঘ পার্টনারশিপ, যা ইংল্যান্ড বোলারদের ক্লান্ত করে দেয়। স্টার্ক মারেন ১৩টি চার, ক্যারিয়ারসেরা ২১* রানে অপরাজিত থাকেন বোল্যান্ড।

অস্ট্রেলিয়ার কেউই ব্যর্থ হয়নি—দলের ১১ জনই করেছেন দুই অঙ্কের রান, পাঁচটি পৃথক ফিফটি, আর ছয়টি পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই জুটি। দলের সামগ্রিক এই ধারাবাহিকতাই তৈরি করেছে বিশাল ব্যবধান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত