রূপচর্চার যেসব ভুলে নষ্ট হতে পারে হরমোনের ভারসাম্য

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২১ পিএম

চকচকে বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই নতুন নতুন প্রসাধনী কিনে ব্যবহার করেন। ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানোর আশায় ব্যবহার করা এসব পণ্য উল্টো শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমনটাই জানানো হয়েছে ‘এন্ডোক্রিন সোসাইটি’ প্রকাশিত এক গবেষণায়।

নিয়মিত ব্যবহার করা কিছু কসমেটিক পণ্যের রাসায়নিক উপাদান অজান্তেই হরমোনজনিত গোলমাল তৈরি করে দেয়।

তাই মুখে বা চুলে কী লাগাচ্ছেন, তার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। আর এ বিষয়ে জানাব আজকের প্রতিবেদনে।

চড়া সুগন্ধিযুক্ত পারফিউম

অনেকে সরাসরি ত্বকে সুগন্ধি স্প্রে করেন, যা মোটেও নিরাপদ নয়। পারফিউমে ব্যবহৃত সুগন্ধি তেল, অ্যালকোহল এবং বিশেষ করে থ্যালেটস নামের রাসায়নিক উপাদান তীক্ষ্ণ গন্ধ ধরে রাখে।

এই থ্যালেটস শরীরের এন্ডোক্রিন গ্রন্থির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত চড়া গন্ধের পারফিউম ব্যবহার করলে নারীদের ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এমনকি থাইরয়েড হরমোনেরও ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

উচ্চ এসপিএফের সানস্ক্রিনে ঝুঁকি

অ্যাভোবেঞ্জন, অক্সিবেঞ্জোন, অক্টিনোক্সেট—এসব উপাদান সানস্ক্রিনে সাধারণত থাকে। রোদ থেকে সুরক্ষা দিলেও শরীরের জন্য সবটাই নিরাপদ নয়। বিশেষভাবে অক্সিবেঞ্জোন বেশি থাকলে ইস্ট্রোজেনের স্বাভাবিক উৎপাদনে বাধা তৈরি করতে পারে, যা শরীরের নানা জৈবিক কার্যক্রমকে বিপর্যস্ত করে দেয়। তাই কিনতে গেলে উপাদান তালিকা অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।

অতিরিক্ত স্ক্রাবিং

প্রতিদিন স্ক্রাবার ব্যবহার করলে ত্বকের নিরাপত্তা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রদাহ বাড়ে এবং কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণও বেড়ে যায়। কর্টিসল বাড়লে শরীরের অন্যান্য হরমোনের সমন্বয় নষ্ট হতে থাকে।

সিন্থেটিক রেটিনয়েডের ব্যবহার

যৌবনের ছাপ ধরে রাখতে রেটিনল বেশ জনপ্রিয়। তবে রেটিনয়েডসমৃদ্ধ প্রসাধনী বা সাপ্লিমেন্ট অতিরিক্ত ব্যবহার করলে তা হরমোন ক্ষরণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় এ ধরনের পণ্য ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ।

অ্যান্টি-এজিং প্রসাধনী

কিছু অ্যান্টি-এজিং বা মেকআপ পণ্য ধাতব পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। এগুলোতে আর্সেনিক বা ক্যাডমিয়ামজাত ক্ষতিকর ধাতু থাকতে পারে, যা সরাসরি থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারে সতর্কতা

এসেনশিয়াল অয়েল সবসময় ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত। মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে নারীদের ইস্ট্রোজেন ও থাইরয়েড হরমোনে গোলমাল দেখা দিতে পারে। ল্যাভেন্ডার বা টি ট্রি অয়েল ভুল অনুপাতে ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরো বাড়ে। সম্প্রতি ঘরোয়া ব্যবহারে এর জনপ্রিয়তা বাড়লেও সতর্কতা জরুরি।
 
সূত্র : আনন্দবাজার ডট কম

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত