দামেস্কের উমাইয়া স্কয়ার ঘিরে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে। গাড়ির জানালা দিয়ে শিশুরা নাড়ছে সবুজ-সাদা-কালো সিরীয় পতাকা, আকাশে উঠছে আতশবাজি। রাজধানীসহ পুরো দেশের ‘মুক্তি দিবস’ ৮ ডিসেম্বর রেখে এমন উদযাপনে মেতে উঠেছে সিরিয়ার মানুষ। ২০২৪ সালের এ দিনেই সাবেক স্বৈরশাসক আসাদের পতন ঘটে। এর সঙ্গে শেষ হয় কয়েক দশক ধরে চলা দমনপীড়নের পুলিশি রাষ্ট্র, যার কেন্দ্রে ছিল নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ। বহু সিরীয়ের কাছে শাসনের পতন ছিল বহু বছরের পর প্রথম স্বস্তির নিঃশ্বাস।
উৎসবের অংশ নেওয়া ২৪ বছর বয়সী আবু তাজ আলেপ্পোর গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা; এক দশক আগে সরকারি বাহিনী ও আসাদবিরোধীদের লড়াইয়ে তার বাড়ি ধ্বংস হয়। এরপর দামেস্ক-বৈরুত হয়ে সৌদি আরবে বাবার কাছে আশ্রয় নেন তিনি। আট বছর সৌদি আরবে থাকা ও মিসরে দুই বছর পড়াশোনার পর তিনি দেশে ফেরেন মাত্র এক সপ্তাহ আগে। তখন সিরিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দামেস্কে আসছে সেই অভিযানের স্মরণে, যা রাজধানী দখল করে বাশার আল-আসাদকে মস্কোতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, দেশের সংস্কৃতি এখন ‘জনগণের হাতে’ এবং দেশের দিকনির্দেশনা তাকে আনন্দিত করছে।
তবে মুক্তির পরের দিনগুলোতে ছিল আনন্দের সঙ্গে উদ্বেগও। ইরাক বা লিবিয়ার উদাহরণ টেনে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ বছরের মার্চে সিরিয়ার উপকূলীয় এলাকায় এবং জুলাইয়ে সুয়েইদায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হন। প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হামলা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। গত মাসে হোমসেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল, যদিও সরকারের হস্তক্ষেপে তা শান্ত হয়। তবু উমাইয়া স্কয়ারে লাখো মানুষের আগমন সামনে রেখে এটা স্পষ্ট যে, কীভাবে আসাদের পতন সিরীয়দের জীবনকে স্পর্শ করেছে। এ উমাইয়া স্কয়ারই হবে আসাদের পতনের প্রথম বার্ষিকী উদযাপনের কেন্দ্র। শহরের সর্বত্র এখন সবুজ-সাদা-কালো পতাকা। উমাইয়া এলাকার শিশুদের গালে আঁকা পতাকার রঙ। মারঝেহ স্কয়ারে লোকজন ব্যাগভর্তি পতাকা খুলে বিক্রি বা বিতরণ করছেন।
