ড্রোনের সহায়তায় ইউক্রেনে যুদ্ধ করছেন ৭০ হাজার নারী সেনা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৮ এএম

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীতে বর্তমানে ৭০ হাজারের বেশি নারী সেনা যোগদান করছেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সময় যা সংখ্যাগতভাবে কম ছিল, তার থেকে এখন নারীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি নারী সরাসরি ফ্রন্টলাইনে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পেছনে আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ড্রোনের ভূমিকা অপরিহার্য। ড্রোন ব্যবহার নারীদেরকে প্রচলিত সামনের সারির লড়াই ছাড়াও নানা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রযুক্তিগত ভূমিকায় সক্রিয় হতে সাহায্য করছে।

তৃতীয় আর্মি কর্পসের ২৬ বছর বয়সি মনকা বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাকে কার্যকরভাবে যুদ্ধ করতে সক্ষম করেছে।’ বিদেশে রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করা মনকা দেশ ফিরে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি স্বল্প দূরত্বের এফপিভি ড্রোন পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ‘হাতে গোলাবারুদ নিয়ে ছুটতে না হয়, বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া যায়— এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

ড্রোন এখন ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু ড্রোন ‘কামিকাজে’ হিসেবে আঘাত হানে, কিছু বোমা ফেলে ফিরে আসে, আবার অনেক ড্রোন নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়। রাশিয়ার তেল স্থাপনা, গোলাবারুদ মজুতঘর ও সুরক্ষা ঘাঁটিতে এই প্রযুক্তির প্রয়োগ যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিয়েছে।

৯ম ব্রিগেডের ২৫ বছর বয়সি ড্রোন-পাইলট ইয়াহা প্রথমে প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে বাধার মুখে পড়লেও শিগগির বুঝে নেন, ‘দূর থেকে শত্রুকে আঘাত করার ধারণাটি আমার ভালো লেগেছিল। তখনই বুঝেছিলাম—এটাই ভবিষ্যৎ।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ কোনো আকর্ষণীয় বা রোমাঞ্চকর বিষয় নয়। এটা যন্ত্রণা, কষ্ট আর হারিয়ে ফেলার গল্প। তবুও লড়াই চালিয়ে যাওয়া জরুরি, কারণ পরিস্থিতি বদলাতে হবে।’

২৭ বছর বয়সি ইমলা, যিনি আগে পেশাদার হকি খেলোয়াড় ছিলেন, সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর প্রথমে প্যারামেডিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ড্রোন পরিচালনায় যুক্ত হন। তার প্রথম রিকনাইস্যান্স মিশনে নার্ভাস হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, কয়েক মুহূর্তে কাঁদতেও ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু অভিজ্ঞতার সঙ্গে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।’

খারতিয়া কর্পসসহ আরও কিছু ইউনিট নারীদের লক্ষ্য করে নতুন নিয়োগ প্রচারণা শুরু করেছে। ২০২৪ সালের পর থেকে এই ইউনিটগুলোতে নারী সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। খারতিয়ার জনসংযোগ কর্মকর্তা ভলোদিমির দেহতিয়ারোভ মন্তব্য করেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অসংখ্য নারী আমাদের কমব্যাট ইউনিটে যোগ দিয়েছেন এবং সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রযুক্তি, বিশেষ করে ড্রোনের ব্যবহার যত বাড়ছে, পুরুষনির্ভর পেশাগুলো নারীদের জন্য তত বেশি উন্মুক্ত হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত