গাজীপুরে কোটি টাকার সেই সেতুর দুপাশের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩৩ পিএম

কাঠের সিঁড়ি বেয়ে পার হওয়া সেই কোটি টাকার সেতুর দুপাশের সংযোগ (অ্যাপ্রোস) সড়কের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এক কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণ করা সেতুর দুইপাশে মাটি ভরাট না করে আগলা রেখেই চলে গিয়েছিল ঠিকাদার। ফলে স্থানীয়রা নিরুপায় হয়ে কাঠের তৈরি সিঁড়ি বানিয়ে তা ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতেন ওই সেতুটি।

স্থানীয়দের এমন ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল আর দুর্ভোগ নিয়ে রবিবার (৭ নভেম্বর) দৈনিক দেশ রূপান্তর একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পত্রিকার ৯ এর পাতায় প্রধান ” কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় কোটি টাকার সেতুতে” এমন শিরোনামে একটি খবর ছাপা হয়। এর পর কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে পরের দিন থেকেই (রবিবার) সেতুর সংযোগ সড়কের কাজে হাতে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর আগে প্রায় এক বছর স্থানীয় বাসিন্দারা এ সেতু পার হতেন ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সিঁড়ি ব্যবহার করে।

এ সেতুটি গোসিংগা ইউনিয়নের চাওবন গ্রাম আর রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া পারুলী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে। বছর পার হলেও স্থায়ী ভাবে সেতু ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে না। ফলে দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করা লাগে এ অঞ্চলের মানুষের। সেতুর দুই পাশে অন্তত ২০ ফিট লম্বা কাঠের সিঁড়ি বানিয়ে চলাচল করা লাগছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে উপজেলা গোসিঙ্গা ইউনিয়নের চাওবন ও রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামের সীমান্ত এলাকার পারুলী নদীর ওপর ১ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি সেতুটি ১৪ ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে। সেতুর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কর্মকর্তার কার্যালয়। মের্সাস মিথুন এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ সেতুর নির্মাণ কাজ করেছে। 

রবিবার সরেজমিন গিয়ে চোখে পড়ে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজে ভেকু (এসকেভেটর) মাটি কাটছে। এরি মধ্যে সেতুর দুই পাশ ভরাট করা হয়েছে। এখন ফিনিসিং এর কাজ চলছে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুরা দাঁড়িয়ে ভেকুর কাজ দেখছিল। অন্তত দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে এ কাজ সম্পন্ন হতে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। তারা জানান রবিবার দুপুর থেকে কাজ শুরু হয়েছে।

মিথুন এন্টারপ্রাইজের সহকারী ইমাঈল হোসেন জানান সেতুর দুপাশের মাটি ভরাট চলছে। এখন আশপাশে শুকনা থাকায় মাটি সহজে মিলছে। একটি বড় ভেকু দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করি দুই তিন দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমান হোসেন বলেন অনেক দিন আমরা এ সেতু পারাপারে চরম দুর্ভোগ কাটিয়েছি। কাঠের নড়বড়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে সেই সেতু পার হতে হয়েছে। বয়স্ক আর শিশুরা দারুন ভয়ে থেকেছে পার হওয়ার সময়। এখন আশা করি দুর্ভোগ লাঘব হবে। তিনি বলেন গত কদিন সাংবাদিকরা এ দুর্ভোগ নিয়ে রির্পোট করার ফলে দ্রুত কাজে হাত দিলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ভেকু চালক ইয়াহিয়া হোসেন জানান- রবিবার সকালেই ভেকু সেতুর কাজে চলে আসে। তবে নানা জটিলতায় কাজ শুরু হতে দুপুর লেগে যায়। আশা করা যায় দুদিন কাজ সম্পন্ন হবে।

রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রসাশক উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. গোলাম মুরশেদ মুরাদ বলেন সেতুর দুপাশের অ্যাপ্রোস (সংযোগ) সড়কের কাজ চলমান। আশা করি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনে কষ্ট দূর হয়ে যাবে। এখন লোকজন ঝুঁকিমুক্ত চলাচল করতে পারবে এ সেতু ব্যবহার করে।
 
শ্রীপুর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) ইশতিয়াক হোসাইন উজ্জল বলেন, সেতুর দুপাশে সংযোগস্থল (অ্যাপ্রোস) স্থাপন কাজ শুরু হয়েছে। সেতুর দুপাশের মাটি ভরাটের পর সেতু থেকে ১৫ মিটার করে ইটের সলিং করা হবে সেতুর দুপাশে সড়কেই। তবে সংযোগস্থলে মাটি ভরাটের পর কিছু দিন অপেক্ষা করে মাটি ঠিকমত বসে গেলে ইট সলিং কাজে হাত দেওয়া হবে। এখন মানুষের স্বাভাবিক চলাচল উপযোগী নিশ্চিত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত