অবৈধভাবে গর্ভপাত করার অভিযোগে মামলা, যমজ দুই নবজাতকের মৃত্যু

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:২১ পিএম

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় গর্ভাবস্থার ৭ মাসে গর্ভপাতের ঘটনায় যমজ দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অবৈধভাবে গর্ভপাত করার অভিযোগে মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুক জামিরা হাজীপাড়া গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের ছেলে স্বপন মিয়া (২২) একই গ্রামের মাহাবুব রহমানের মেয়ে মনি আকতারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে প্রেমের টানে মেয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু মেয়ের পরিবার এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। পরে ওই ছেলে বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন পরিবারটি। এর কিছুদিন পর আপস করার লক্ষ্যে ছেলে ও মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে ইসলামিক শরিয়ত মোতাবেক আবার তাদের দুইজনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বপন মিয়া তার স্ত্রী মনি আকতারকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। পরে মনি আকতার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সম্প্রতি ৭ মাসের গর্ভাবস্থায় মনি আকতারকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। মনি আকতারের পরিবার মেয়েকে আলট্রাসোনোগ্রাম করার জন্য গাইবান্ধা শহরে নিয়ে যায়। পরে মনি আকতারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এতে ৭ মাসের দুটি কন্যা শিশুর জন্ম হয়। একটি মৃত্যু অবস্থায় জন্ম হয় অন্যটি পরে মারা যায়। ঘটনাটি ২৮ নভেম্বর ঘটলেও একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

মামলার বাদী হাছিনা বেগম বলেন, স্বপন মিয়া আমার ছেলে। সে বাহিরে বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করে। স্ত্রী নিয়ে সে ঢাকায় থাকতেন। কিন্তু মনির পরিবার আমার ছেলের সঙ্গে সংসার করাবে না। তাই অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটিয়েছে। নিষ্পাপ দুটি শিশুকে দুনিয়ার মুখ দেখতে দেয়নি। এই জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ছেলের মা (নবজাতকের দাদি) বাদী হয়ে পলাশবাড়ী আমলী আদালতে মামলা করেছেন। আদালত পলাশবাড়ী থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত