বরিশাল নগরীর গোড়াচাঁদ দাশ রোডে এশিয়ান টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ফিরোজ মোস্তফাকে হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে এক পুলিশ কনস্টেবল। গত সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে এ হামলা চালায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আমানতগঞ্জ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল নাবিদ আনজুম। গুরুতর আহত ফিরোজ মোস্তফাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম জানান, জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিক ফিরোজকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তিনি আরও বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগ দিয়েছেন; এর আগে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে সম্পর্কে তার জানা নেই।
ফিরোজ মোস্তফা জানান, নাবিদ আনজুম তার পূর্বপরিচিত ছিল এবং সেই কারণে তার বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করত। কিন্তু পুলিশে চাকরি করা সত্ত্বেও নাবিদ মাদক সেবন এবং অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল। সমস্যার সূত্রপাত হয় যখন নাবিদের ই-মেইল আইডি হ্যাক হয়ে যায়। সেই ঘটনার দায় তিনি ফিরোজের ওপর চাপিয়ে দেয়। এর পর থেকেই দুজনের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়। ফিরোজের অভিযোগ অনুযায়ী, নাবিদ গোপনে তার মোবাইল ফোন থেকে তার এবং তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি চুরি করে। এই ছবি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়।
গত ২৫ অক্টোবর রাতে নাবিদ লোকজন নিয়ে ফিরোজের বাসায় প্রবেশ করে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। তার পর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত তার এবং তার স্ত্রীর ছবি ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে তাকে আটকে রেখে উলঙ্গ করে এবং ভিডিও ধারণ করে।
অবশেষে লোকলজ্জা অতিক্রম করে ফিরোজ ২ নভেম্বর জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানান। কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
আহত হওয়ার পর থানায় যাওয়ার পরেও পুলিশ কনস্টেবল হওয়ার কারণে থানার অফিসার ইনচার্জ নাবিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা গ্রহণ করেননি। এই অবস্থায় ফিরোজ ৩ নভেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
গত ১৩ নভেম্বর পুলিশ কমিশনার কার্যালয় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আবুল কালাম আজাদকে অভিযোগ তদন্তের জন্য নির্দেশনা দেন। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারের সময় নাবিদ পুনরায় ফিরোজকে হুমকি দেয়।
ফিরোজ আরও অভিযোগ করেন যে থানা পুলিশ মামলা না নিলেও কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক সাঈদ নাবিদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি তদন্তের নামে ফিরোজকে থানায় ডেকে নিয়ে তার ল্যাপটপ নিয়ে যান। পরে সাবেক অফিসার মিজানুর রহমানের নাম বলে ফিরোজকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়।
যখন ফিরোজ পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন, তখন এসব পুলিশ কর্মী আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
এর ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে নাবিদ গোড়াচাঁদ দাশ রোডের ফিরোজের বাসায় ঢুকে তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করে দেয়। এক পর্যায়ে সে ফিরোজকে ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
