প্রতিকূলতায়ও স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৪ এএম

৬৮ বছরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সমস্যার শেষ নেই। ২ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতালে শয্যাসংকটসহ আছে নানা সমস্যা। তারপরও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসার জায়গা। হাসপাতালের ৬০টি বিভাগ প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। এ ছাড়া বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী সেবা নিয়ে থাকেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দশ মাসে বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন ৯ লাখ ১৫ হাজার ১৩২ জন। একই সময়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৪ জন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬১২ জন। তবে আলোচ্য সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ হাজার ১৩১ জন।

জানা গেছে, সরঞ্জামের সদ্ব্যবহার, রোগী ভর্তি ও শয্যা ব্যবহারের হার, অতিরিক্ত রোগীকে সেবা প্রদান, স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারিয়ান সংখ্যা, বড়-ছোট অস্ত্রোপচার, রক্ত পরিসঞ্চালনের নিরাপত্তা, রোগীদের সন্তুষ্টি এসব সূচক মিলিয়ে দেশের ১৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ষিক র‌্যাঙ্কিং করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ মূল্যায়ন (২০২৪ সালের) অনুযায়ী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এর আগে ২০২৩ সালে প্রথম স্থান পেয়েছিল বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন। 

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মাইনর অস্ত্রোপচার হয়েছে ৭৭ হাজার ১১৯টি এবং মেজর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে ৩২ হাজার ৩৮৪টি। ২০২৪ সালের মূল্যায়নে অধিকাংশ সূচকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সেবা দিয়ে পূর্ণ নম্বর পেয়েছে চমেক হাসপাতাল।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাসভিত্তিক বহির্বিভাগের সেবাগ্রহিতা যথাক্রমে জানুয়ারি ১ লাখ ১৭৩, ফেব্রুয়ারি ৯৭ হাজার ৪, মার্চ ৭৪ হাজার ৩৩, এপ্রিল ৯৫ হাজার ২৭৫, মে ১ লাখ ৬৯২, জুন ৭৬ হাজার ২১৭, জুলাই ৯৬ হাজার ৫৩৩, আগস্ট ৯১ হাজার ৫২, সেপ্টেম্বর ৮৪ হাজার ৬০১ এবং অক্টোবরে ৯৯ হাজার ৪৯২ জন। 

জরুরি বিভাগে একই সময়ে সেবাপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা জানুয়ারি ৩১ হাজার ১৯৪, ফেব্রুয়ারি ৩১ হাজার ৩১, মার্চ ৩০ হাজার ৭৯০, এপ্রিল ৩৫ হাজার ২৫৪, মে ৩৪ হাজার ৮৩৩, জুন ৩৫ হাজার ৭১৫, জুলাই ৩৯ হাজার ৬৭, আগস্ট ৩৯ হাজার ১২৪, সেপ্টেম্বর ৩৪ হাজার ৫৬২ এবং অক্টোবরে ৩৮ হাজার ৩৪৪ জন। 

ভর্তি রোগীর সংখ্যা জানুয়ারি ২৪ হাজার ১৪২, ফেব্রুয়ারি ২৩ হাজার ৭১১, মার্চ ২৩ হাজার ২৯৯, এপ্রিল ২৫ হাজার ৮৮৭, মে ২৫ হাজার ৪৮১, জুন ২৪ হাজার ১৭১, জুলাই ২৬ হাজার ৩৭২, আগস্ট ২৬ হাজার ৮৩১, সেপ্টেম্বর ২৬ হাজার ৪৭৬ এবং অক্টোবরে ২৮ হাজার ২৪২ জন।  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু জানুয়ারি ১১৪০, ফেব্রুয়ারি ১০৬৬, মার্চ ১০৫৪, এপ্রিল ১০৮৩, মে ১০০৬, জুন ১০৯০, জুলাই ১২৮১, আগস্ট ১১৮৩, সেপ্টেম্বর ১০৭৫ এবং অক্টোবরে ১১৫৩ জন। 

হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ জানায়, শয্যাসংখ্যার তুলনায় রোগীর চাপ এত বেশি যে প্রতিদিন মেঝে, বারান্দা ও করিডরেও রোগী রাখতে হয়। 

গত সোমবার সরেজমিনে গেলে মেডিসিন ইউনিট-২-এ চিকিৎসাধীন নগরের অক্সিজেন এলাকার গৃহবধূ বিলকিস বানু বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে। চমেক হাসপাতালে সেই একই চিকিৎসা কম খরচে পাওয়া যায়। এটা গরিবের ভরসা।’ 

হৃদরোগ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এনজিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান, ক্যানসারের রেডিওথেরাপি, ডায়ালাইসিসসহ জটিল সব চিকিৎসা এখানেই হয়। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্য।’ উল্লেখ্য, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২২০০ শয্যার চমেক হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৪ কোটি ৭৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। একই সময়ে ২৬০০ শয্যার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বরাদ্দ ছিল ১৬৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। 

প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সেবার মান ধরে রেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে আছে।

পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন বলেছেন, এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে চিকিৎসক, নার্সসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত