গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী সেজে সেবা নিতে যান দুর্নীতি দমন কমিশনের লোকজন। পরে তারা নানা অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই পোশাক পরিহিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সদস্যরা অভিযান চালায়।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ১১টার দিকে দুদক গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। পরে বিষয়টি সবার নজরে আসলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ নড়েচরে বসেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে দুদকের কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন, রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা ও প্রশাসনিক নথিপত্র পরীক্ষা করেন।
আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করলেও প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে দুদক জানিয়ে গণমাধ্যমক কর্মীদের।
গাজীপুর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদকের) সহকারী পরিচালক এনামুল হক বলেন, ‘দুদকের নিজস্ব হটলাইনে (জরুরি সেবা নম্বর) একজন রোগী ডাক্তারদের অনুপস্থিতির অভিযোগ করে ফোন করেন। তার অভিযোগ রোগীদের বাইরে থেকে যাবতীয় ওষুধ কিনতে বাধ্য করা, খাবারের অনিয়ম ও অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সকাল সকাল রোগী সেজে সেবা নিতে লোক পাঠাই।
তিনি আরও বলেন, ‘রোগী সেজে আমরা সরাসরি অনিয়ম পর্যবেক্ষণ করেছি। হাসপাতালে থাকা ওষুধ না দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বলা হচ্ছে। কিছু প্রেসক্রিপশনে না থাকা ওষুধও রেজিস্ট্রারে যোগ করা হয়েছে। তিনি এসব বিষয়ই বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে পাঠানো হবে।
এ সময় অভিযানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর দুদকের উপসহকারী পরিচালক সাগর কুমার সাহাসহ দুদকের কর্মকতারা।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আমাদের হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। অনেক কিছু তারা যাচাই করেন। আরও কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়।
