জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে লিপি আক্তার (৩৩) নামে এক র্যাব সদস্যের স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। চুরি করতে গিয়ে তাদের চিনে ফেলায় ওই নারীকে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে সরিষাবাড়ী পৌরশহরের শিমলা বাজার গণময়দান-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ লিপি আক্তার উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মহর উদ্দিন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক। বর্তমানে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)-২ এ কর্মরত আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা লিপি আক্তার উপজেলার গণময়দান (শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র) এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বাসাটি নিরিবিলি হওয়ায় আগে আরও দুবার চুরি হয়েছে। গতকাল ভোরের দিকে তিন চোর জানালার গ্রিল কেটে ফের ওই বাসায় ঢুকে।
নিহতের মেয়ে মিথি (৮) জানায়, তার দুই ভাই মামার বাড়িতে ছিল। ঘুমে থাকা অবস্থায় বাসায় চোর ঢুকে। এ সময় ঘুম ভাঙলে মা চোরদের চিনে ফেলে। তখন তারা মায়ের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে পালিয়ে যায়। পরে মেয়ের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন মা লিপিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি বাচ্চু মিয়া জানান, চোরদের চিনে ফেলায় অবস্থা বেগতিক দেখে তারা ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিজাম উদ্দিন (২৫) নামের এক সৌদি প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে ফতুল্লা মডেল থানার হাজীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের তজুমুদ্দিনের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী মনিরা বেগমকে (২১) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। নিহত নিজাম উদ্দিন দিনাজপুরের খানসামা থানাধীন আড়াজি গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে। তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শহরের হাজীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের তজুমুদ্দিনের বাড়ির পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন। একই ভবনের চতুর্থ তলায় তার শ্বশুর-শাশুড়ি থাকতেন।
নিহতের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, গত বুধবার মধ্যরাতে তুচ্ছ বিষয়ে স্বামীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার স্বামী ডিভোর্সের প্রসঙ্গ তুললে তিনি ডিভোর্সের বিষয়ে সম্মতি দেন। এরপর রাতে তারা ঘুমিয়ে পড়লে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার স্বামী ওড়না গলায় প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছেন। তখন তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলেও তার স্বামীর বড় ভাই মইনুদ্দিন ও খালাতো ভাই আশরাফুল হাসপাতালে নিতে দেয়নি বলে জানান তিনি। নিহতের ভাই মইনুদ্দিন বলেন, ‘রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান বিছানার ওপর তার ভাইয়ের মরদেহ। তার নাক-মুখ দিয়ে তখন রক্ত বের হচ্ছিল। পরে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নিহতের স্ত্রীকে আমাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
