মিসরাত জাহান মৌসুমী নামটা ফুটবলের অভিধান থেকে প্রায় মুছেই যেতে নিয়েছিল। তবে নামটা ফিরে এসেছে। গত শনিবার ঘোষিত জাতীয় নারী ফুটসলাম দলের প্রাথমিক তালিকায় আছে সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের অধিনায়কের নাম। এ তালিকাটা বেশ সমৃদ্ধ। গত অক্টোবরে যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ জিতেছিল, সেই সাবিনা খাতুনকে ফুটসাল দলে নেওয়া হয়েছে অধিনায়ক হিসেবে। এ ছাড়া পিটার বাটলারের রোষানলে পড়ে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ না পাওয়া মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাতসুশিমা সুমাইয়া, নিলুফার ইয়াসমিনরা আছে ১৮ জনের তালিকায়।
থাইল্যান্ডে ১৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো হবে সাফ নারী ও পুরুষ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। দল গঠনের লক্ষ্যে গত ৩০ নভেম্বর শুরু হয়েছিল নারী ফুটবলারদের ট্রায়াল। সাবিনা, মাসুরাদের অবশ্য ট্রায়ালে অংশ নিতে হয়নি। তারা সরাসরিই জায়গা পেয়েছেন ক্যাম্পে। দীর্ঘদিন খেলার বাইরে থাকা মৌসুমিকে অবশ্য জায়গা পেতে হয়েছে অন্যদের সঙ্গে ট্রায়াল দিয়ে।
প্রাইমারি স্কুল ফুটবলের মাধ্যমে ২০১১ সালে রংপুর থেকে উঠে এসে এক সময় জাতীয় দলে নিয়মিত মুখ ছিলেন মিডফিল্ডার মৌসুমী। ২০১৯ সালে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল সাফ শিরোপা জিতেছিল। ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত জাতীয় দলে খেলেছেন ২০২১ সাল পর্যন্ত। এরপর এক চোটের কারণে সেই যে ছিটকে গেলেন, সুস্থ হওয়ার পরও আর খোলেনি জাতীয় দলের দরজা। অভিমানে একসময় খেলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যস্ত ছিলেন ফুটবল কোচিং ও একটি স্কুলের গেম টিচার হিসেবে। তবে ফুটসাল দল গঠনের খবর পেয়ে ট্রায়ালে অংশ নিয়ে টিকে যান। এখন ইরানি কোচের অধীনে মূল দলে জায়গা পেতে লড়ছেন মৌসুমি।
আপাতত ১৮ জন প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত দলে খেলবেন ১৪ ফুটবলার। তবে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাইল্যান্ড যাবে ১৬ জন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হবে দুজনকে। ফুটসাল আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ খেলবে ভারতের সঙ্গে। ১৫ জানুয়ারি সেই ম্যাচের দুদিন পর ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর ১৯, ২১, ২৩ ও ২৫ জানুয়ারি যথাক্রমে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
অতীতে একবারই বাংলাদেশের মেয়েদের আন্তর্জাতিক ফুটসাল খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। ২০১৮ আসলে এএফসি বাছাই খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে পূর্ব ধারণা না থাকায় সে আসরের সব ম্যাচেই হারতে হয়েছিল। তবে এবার সাফের আসরে কিছু পাওয়ার আশা রয়েছে মেয়েদের। এই দলে ফুটসাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাবিনা খাতুন ও মাতসুশিমা সুমাইয়ার। দুজনই একাধিকবার মালদ্বীপ নারী ফুটসাল লিগে খেলেছেন।
