গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে দেশের বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালকের উদ্দেশে গতকাল রবিবার রেজিস্ট্রি ডাক ও ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও দেশে এক গভীর নিরাপত্তা সংকট ও ভয়ের
সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিপ্লব-পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে দেশের বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়, যার একটি বড় অংশ আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। এরই মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতা ও প্রাণের ঝুঁকি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
আইনজীবী নোটিসে বলেন, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনী মাঠ এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা প্রার্থীদের প্রাণনাশের কারণ হবে।
নোটিসে আরও বলা হয়, ‘জুলাই সনদ গণভোট’ একটি জাতীয় ঐকমত্যের বিষয় এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ। তাই এতে সহিংস প্রতিযোগিতার সুযোগ নেই। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি তীব্র প্রদ্বিন্দ্বিতামূলক প্রক্রিয়া। তাই অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে বলে মন্তব্য করেন নোটিসদাতা আইনজীবী। তিনি সাত দিনের সময় দিয়ে বলেছেন, কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।
