গত নভেম্বর মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এ সময়ে ৫২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০৭ জন নিহত ও ৮৯৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনা মিলিয়ে গত মাসে সর্বমোট ৫৭৭টি দুর্ঘটনায় ৫৩৩ জনের মৃত্যু ও ৯০০ জন আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানানো হয়। বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে রেলপথে ৪৪টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ১ জন আহত হন। নৌপথে ৭টি দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয় এবং ৪ জন নিখোঁজ হন।
বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যাতে ১৩২ জন নিহত ও ২৫৭ জন আহত হয়েছেন। বিপরীতে সর্বনিম্ন দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, ১৯টি ঘটনায় ২১ জন প্রাণ হারান ও ৮৯ জন আহত হন।
যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। নভেম্বরে ১৯৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০১ জন নিহত ও ১৭১ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার শিকার ৭৪৬টি যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল ৩১.২৩%, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি ২০.২৪%, বাস ১৩%, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৩%, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৭.১০%, নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা ৯.১১% এবং কার-জিপ-মাইক্রোবাস ৬.১৬%।
দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষ রয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২ সদস্য, ১১৩ জন চালক, ৯৭ জন পথচারী, ৪১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪৫ শিক্ষার্থী, ১২ শিক্ষক, ৮০ নারী, ৬০ শিশু, ৫ চিকিৎসক, ৫ সাংবাদিক ও ৬ রাজনৈতিক নেতাকর্মী।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি বেশ কয়েকটি সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত মেরামত, রাতে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ ও যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা এবং মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উল্লেখযোগ্য।
