অ্যাডিলেডে স্মিথের অসুখ ক্যারির সেঞ্চুরি

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩০ এএম

প্যাট কামিন্স আর স্টিভেন স্মিথ কি একসঙ্গে খেলবেন এবারের অ্যাশেজে? অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম দিনের সকালে মাঠ থেকে স্মিথের বিদায় জন্ম দিল এই প্রশ্নের। কামিন্স নিয়মিত অধিনায়ক, তবে চোটের কারণে প্রথম দুই টেস্টে ছিলেন একাদশের বাইরে। তার অবর্তমানে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্মিথ, দুই টেস্টেই অস্ট্রেলিয়া জিতেছে দাপটের সঙ্গে। কামিন্স চোট কাটিয়ে একাদশে ফিরে নেতৃত্ব নেওয়ার ম্যাচে সকাল বেলাতেই অসুস্থ স্মিথ। সকাল বেলায় নাকি তার মাথা ঘুরাচ্ছিল, বমি পাচ্ছিল, কানের ভেতর ব্যথা করছিল। অন্তত সরকারি ভাষ্য তাই। কামিন্স বলেছেন, ‘তিনি আজ সকালে এসে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার মনে হয়েছে তিনি এই ম্যাচের জন্য পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারবেন না, তাই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। আমরা বেশ ভাগ্যবান যে আমাদের উসমানের মতো একজন আছে যে সরাসরি দলে ঢুকে পড়তে পারেন।’ স্মিথ খেলেননি, উসমান খাজা ঢুকে ব্যাট করেছেন চারে। খাজার ৮২ রানের সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারির সেঞ্চুরিতেই প্রথম দিন শেষে স্বস্তিতে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিনে ৮৩ ওভার খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩২৬ রান। ৩ উইকেট জোফ্রা আর্চারের।

ম্যাচের আগে বন্ডাই বিচে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। টসের আধঘণ্টা আগে নিজেকে সরিয়ে নেন স্মিথ, একাদশে ঢুকে যান খাজা। কামিন্স টস জিতে নেন ব্যাটিং। খাজাকে মিডল অর্ডারে ঠেলে দিয়ে সূচনায় ট্র্যাভিস হেড আর জেইক উইদেরাল্ড। তারা খুব একটা ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি। দলীয় ৩৩ রানে বিদায় নেন দুজনেই ৪ বলের ব্যবধানে। ওয়ান ডাউনে মারনাস লাবুশেনও আউট হয়ে যান ১৯ রানে। ১ বল পর আইপিএল নিলামে আগের দিনে সর্বোচ্চ দাম পাওয়া অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন আউট হয়েছেন ০ রানে। ৯৪ রানে ৪ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার। এখান থেকেই খাজা আর ক্যারির সংগ্রাম শুরু। আর্চার ৩ বলে ২ উইকেট নেওয়ার পর ক্যারি আর খাজার ৯১ রানের জুটিতে কিছুটা স্থিরতা ফিরে পায় অস্ট্রেলিয়া। ৮২ রানে খাজা আউট হয়ে গেলেও অ্যালেক্স ক্যারি দেখা পেয়েছেন প্রথম অ্যাশেজ সেঞ্চুরির। ক্যারিয়ারের তৃতীয় হলেও অ্যাশেজে প্রথম তিন অঙ্কের রান করলেন ক্যারি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে তার সর্বোচ্চ ইনিংসটা ছিল ৬৬ রানের। বুধবার অ্যাডিলেডে ১৪৩ বলে ১০৬ রানের যে ইনিংসটা খেলেছেন ক্যারি, তাতে বলা যায় গোটা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংটাকেই তিনি ক্যারি (বহন) করেছেন! খাজার সঙ্গে ৯১, জস ইংলেসের সঙ্গে ৫৯, প্যাট কামিন্সের সঙ্গে ২৭ আর মিচেল স্টার্কের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়েছেন ক্যারি। যখন ব্যাট করতে নেমেছিলেন তখন অস্ট্রেলিয়ার রান ৪ উইকেটে ৯০। ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে আর্চারের শিকার লাবুশেন আর গ্রিন, সেখানে ক্যারি মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই কাভার অঞ্চল দিয়ে মেরেছেন চার। তাতেই উদ্দেশ্যটা স্পষ্ট।

মিচেল স্টার্ক ক্রমশ বোলিং অলরাউন্ডার হয়ে উঠছেন। ব্রিসবেনে করেছিলেন ৭৭, অ্যাডিলেডে প্রথম দিন শেষে ৩৩ রানে অপরাজিত। সঙ্গে নাথান লায়ন ১৮ বলে অপরাজিত ০, ড্রেসিংরুমে আছেন শুধু স্কট বোল্যান্ড। ৮ উইকেটে ৩২৬ রান নিয়ে স্বস্তিতে অস্ট্রেলিয়া, তবে ৮টা উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডও খুব একটা পিছিয়ে নেই। অ্যাশেজের উত্তাপ জিইয়ে রাখতে হলে এই টেস্টে জিততেই হবে ইংল্যান্ডকে। হারলে ছাইয়ের লড়াইয়ের আগুন নিভে গিয়ে স্রেফ ছাইই থেকে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত