মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি জানুয়ারিতে

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ এএম

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এক নতুন ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আগামী বছরের ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-এ অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আজ শুক্রবার বিশ্ব আদালত এই তারিখ ঘোষণা করেছে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই আইসিজে-তে গুণাগুণ বা মেরিট-এর ভিত্তিতে বিচার হওয়া প্রথম গণহত্যার মামলা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার রায় বা পর্যবেক্ষণ গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলাসহ ভবিষ্যতের অন্যান্য আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

আদালতের সূচি অনুযায়ী, শুনানির প্রথম সপ্তাহে অর্থাৎ ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে। ওআইসি-র (অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক কো-অপারেশন) সমর্থনে ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেছিল দেশটি। এরপর ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মিয়ানমার তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে।

ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপে আদালত এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তিন দিন সময় বরাদ্দ করেছে। তবে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই অংশটি জনসমক্ষে বা গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে হবে না।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে এক নৃশংস অভিযান চালায়। এর ফলে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের এক তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন (ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন) সেই সামরিক অভিযানকে 'গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড' হিসেবে অভিহিত করেছিল।

মিয়ানমার অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা বিদ্রোহী কার্যক্রম চালানোর কারণে এই দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল।

১৯৪৮ সালের 'জেনোসাইড কনভেনশন'-এর আওতায় এই মামলাটি চলছে। এই কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো জাতীয়, জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যই হলো গণহত্যা। আইসিজে এ পর্যন্ত মাত্র একবার গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে—১৯৯৫ সালে বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় ৮ হাজার মুসলিম পুরুষ ও শিশুকে হত্যার ঘটনা।

তবে এবারের মামলায় গাম্বিয়া ছাড়াও কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো যুক্ত হয়েছে। তাদের দাবি, গণহত্যা কেবল 'নির্বিচার হত্যাকাণ্ড' দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। তারা আদালতকে পরামর্শ দিয়েছে যে, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকেও গণহত্যার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত