রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ সব দপ্তরের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থীরা। রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে থাকা এসব কার্যালয়ে তারা তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ ছয়টায় জরুরি বৈঠকে বসবেন উপাচার্য।
কার্যালয় তালাবদ্ধ করা ঘটনায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবির নেতাদেও সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও আইন অনুষদের ডিনদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
এ দিকে চলতি মাসের ১৮ তারিখে চলমান মেয়াদের ডিনদের নির্বাচনী মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে প্রশাসন তাদের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেন উপাচার্য। এতে আওয়ামীপন্থী ছয়জনের পদত্যাগের দাবিতে আল্টিমেটাম দেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তাদের এই দাবি আরও জোরদার করা হয় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পরে।
গত কয়েকদিনের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের শাস্তির দাবিতে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। আল্টিামেটামে দেওয়া হুঁশিয়ারি মোতবেক আজ দুপুর একটার দিকে তিন ডিনের কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয় এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার ক্লাস নিচ্ছেন জানতে পেরে তার বিভাগেও যান তারা।
পরে বিকালে আওয়ামীপন্থী ডিন ও শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে প্রশাসন ভবনের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে তালা দেয় রাকসু প্রতিনিধি ও একদল শিক্ষার্থী। পরে সেখানে উপস্থিত হন শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খানের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে তাদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আলোচনা চলে। এতে তাদের সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জরুরি সভায় বসে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দেওয়া হয়।
কার্যালয়ে তালা দেওয়া ডিনরা হলেন, আইন অনুষদের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্ল্যাহ। অন্য তিন ডিন হলেন বিজ্ঞান অনুষদে নাসিমা আখতার, প্রকৌশল অনুষদে বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূবিজ্ঞান অনুষদের এ এইচ এম সেলিম রেজা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘হইহই রইরই, আওয়ামী লীগ গেলি কই’, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার, সিনেট সদস্য আকিল বিন তালেব, রাকসুর সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসলাম, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রবিবার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদের আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। সকালে তিনি রাকসু ভবনের সামনে অবস্থান নেন। ছয় ডিনের কেউ ক্যাম্পাসে না থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে একে একে তাদের সবাইকে কল করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। একই সঙ্গে তাদের উদ্দেশ্যে লেখা পদত্যাগপত্রও প্রকাশ করেন।
পরে দুপুরে সালাহউদ্দিন আম্মার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ মোটামুটি সব দপ্তরে আওয়ামীপন্থীদের দপ্তরগুলো তালাবদ্ধ। আমিও এটাই চাই, বিচার না হওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকুক। সাথে সাথে একটা তালিকা করেছি বিগত জুলাইয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান করা শিক্ষকদের। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির এবং অন্যান্য সংগঠনের কাছে থাকা তালিকাও আহ্বান করছি অনুগ্রহপূর্বক। আমার তালিকায় অনেকে বাদ পড়তে পারে, সেটা আপনাদের থেকে সংগ্রহ করব আগামী ৩ দিনের মধ্যে।’
পদত্যাগের বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্ল্যাহ বলেন, তিনি এই পরিস্থিতিতে ডিন হিসেবে দায়িত্বে থাকতে চাচ্ছেন না। উপাচার্যের কাছে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। উপাচার্য যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই হবে।
এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য এখনো আসেনি। ডিনদের মেয়াদ শেষ হলেও সমাবর্তন, সামনে ভর্তি পরীক্ষাসহ নানা কারণে তাদের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সামনে ভর্তি পরীক্ষা রেখে এখন তাদের অব্যাহতি দেওয়া অনেক জটিলতা তৈরি করবে। উপাচার্য মহোদয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন।’
