দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর 'নেগেটিভ' ভূমিকায় সাকিব

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৮ পিএম

‎এবারই প্রথমবার আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেলছেন সাকিব আল হাসান। এমআই এমিরেটসের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে মোটেই ভালো করতে পারেননি। ব্যাট হাতে এক ম্যাচে ১২ বলে ১৬ রান করার পর তাঁকে উঠিয়ে নেয় এমিরেটস। আর প্রথম দুই ম্যাচেই ২ ওভার করে বোলিং করে ২৭ ও ২০ রান দিয়েছিলেন।

‎সেই সাকিব নিজেকে খুঁজে পেলেন তৃতীয় ম্যাচে। রবিবার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে স্টেডিয়ামে ডেজার্ড ভাইপার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। সাকিবের করা ২৪ বলে একটি চার-ছক্কাও হয়নি। ২৪ বলের অর্ধেকই ডট ছিল। তার নিয়ন্ত্রিত স্পেলের ফলেই ভাইপার্স থামে ১২৪ রানে, যা ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখে।

পরে ব্যাট হাতে ১৭ রান করে এমআইকে টানা তৃতীয় জয় পেতে অনদান রাখেন। হন ম্যাচ সেরা।

ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান। ছবি: এক্স
‎ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন, "এটি নিশ্চিতভাবেই স্পিনারদের জন্য উপযোগী একটি পিচ ছিল। মূল কাজ ছিল কেবল ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল ফেলে যাওয়া। আজ আমি সেটা করতে পেরেছি এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে খুব খুশি। এটি ব্যাটিং করার জন্য বেশ কঠিন একটি উইকেট ছিল। আমাদের দলে এমন অনেক বিধ্বংসী খেলোয়াড় আছে যারা সহজেই বাউন্ডারি পার করতে পারে, তাই কাউকে একজন ‘নেতিবাচক’ [অ্যাঙ্করিং বা একপ্রান্ত ধরে রাখা] ভূমিকা পালন করার দরকার ছিল। লক্ষ্য তাড়া করা নিশ্চিত করতে আমি সেই দায়িত্বটি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম। দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে আমি খুবই সন্তুষ্ট।"

‎ইনিংসের সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব। ওভারের শেষ বলে স্কিড করা ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হন ফখর জামান। বল ঠিকভাবে ব্যাটে লাগাতে না পারায় দ্রুত স্টাম্প ভেঙে দেন নিকোলাস পুরান, বিদায় নিতে হয় পাকিস্তানি ওপেনারকে।

‎পরের ওভারে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন সাকিব। নিখুঁত লাইন-লেন্থের বলে স্যাম কারানকে ফাঁদে ফেলেন তিনি। ডেলিভারির গতি ও টার্ন বুঝতে না পেরে সরাসরি সাকিবের হাতেই ক্যাচ তুলে দেন ইংলিশ অলরাউন্ডার। দুই ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ২-০-৮-২।

‎শেষ দুই ওভারেও রান আটকাতে দারুণ দক্ষতা দেখান বাঁহাতি স্পিনার। শেষ ওভারে ড্যান লরেন্সের রিভার্স সুইপে থার্ড ম্যানে সুযোগ তৈরি হলেও ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি জহুর খান। ফলে আর উইকেট যোগ হয়নি। তবে তাতেও তার স্পেলের ধার কমেনি।

‎চলতি আসরে এটি ছিল সাকিবের তৃতীয় ম্যাচ। আগের দুটি ম্যাচে অল্প ওভার বোলিং করেও সাফল্য না পাওয়ায় এবং খরচ বেশি হওয়ায় একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। তবে এই ম্যাচে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তিনি এখনও কতটা কার্যকর।


×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত