রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দক্ষিণে গাড়ির নিচে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হয়ে এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার তদন্তকারীদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। রাশিয়ায় বড় অপরাধগুলোর তদন্ত করে থাকে সরকারি সংস্থা ‘ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি’। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভের ‘হত্যাকাণ্ডের’ তদন্ত শুরু করেছে। নিহত জেনারেল সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ দপ্তরের প্রধান ছিলেন। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, ‘ইউক্রেনীয় স্পেশাল ফোর্সেস’ এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মস্কোর দক্ষিণাংশে ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্তকারীদের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিকটবর্তী একটি কার পার্কে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। সময় থেকেই কিয়েভ রুশ সামরিক কর্মকর্তা ও ইউক্রেনের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত অংশে ক্রেমলিনপন্থিদের লক্ষ্য করে চোরাগোপ্তা হামলা শুরু করে এমনটাই দাবি করে মস্কো। এপ্রিলে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে সশস্ত্র বাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল ইয়ারোসøাভ মোসকালিক নিহত হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার রেডিওলজিক্যাল, কেমিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ইগর কিরিলভ ইলেকট্রিক স্কুটারে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন। ওই হামলার দায় নেয় ইউক্রেনের এসবিইউ নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২২ সালের আগস্টে কট্টর রুশ জাতীয়তাবাদী নেতা আলেকজান্ডার দুজিনের মেয়ে দারিয়া দুজিনা গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হন।
এদিকে, কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুটি জাহাজ ও দুটি জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর একটি গ্রামে আগুন লেগে যায়। রাশিয়ার কৌশলগত জ্বালানি রপ্তানি এবং লজিস্টিক কেন্দ্র ভোলনা টার্মিনালে নোঙর করে থাকা ওই জাহাজ দুটি থেকে সব ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার আঞ্চলিক কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে। টেলিগ্রাম অ্যাপে ক্রাসনোদার অঞ্চলের অপারেশনাল সদর দপ্তর জানায়, ড্রোন হামলায় দুই জাহাজ ও দুটি জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভোলনা এলাকায় আগুন ধরে যায় আর তা প্রায় ১৫০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কার্চ প্রণালির তীরবর্তী ভোলনা ক্রিমিয়া সেতুর খুব নিকটবর্তী একটি এলাকা। ক্রিমিয়া সেতু রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুট। এটি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করেছে। ইউক্রেন প্রায়ই ক্রাসনোদার অঞ্চলে ড্রোনযোগে হামলা চালায়। এসব হামলার লক্ষ্য থাকে তেল শোধনাগার, জ্বালানি তেলের ডিপো, বন্দর ও বিমান ঘাঁটিগুলো। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলটি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ও সামরিক লজিস্টিকসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ-সংলগ্ন এই অঞ্চলটি ইউক্রেনের ড্রোন হামলার আওতার মধ্যে অবস্থিত।
