ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের সঙ্গে অর্ধ-শতাধিক কৃষক জড়িত। উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন টিক্কা, শাফি মৃধা, বাবলু মোল্লা, আঞ্জুয়ারা, মেরি বেগম প্রমুখ। তবে এর মধ্যে সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদী গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন টিক্কা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে অগ্রগামী। তিনি ২০১৩ সাল থেকে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন। এখন তিনি স্বাবলম্বী। ভার্মি কম্পোস্ট তার জীবিকা নির্বাহের উৎস। পেশা হিসেবে এটাও যে দৃষ্টান্ত হতে পারে, তা দেলোয়ার হোসেন প্রমাণ করেছেন।
জানা যায়, সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি) নামের একটা আঞ্চলিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এই ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে উপজেলার প্রায় ৩০০ জন কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে ৬০-৭০ জন কৃষক ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সম্পৃক্ত আছেন। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফের অর্থায়নে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনকারী কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে তাকে সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী নাজমা বেগম। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২ মন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করেন। প্রতি মন ভার্মি কম্পোস্ট ৬০০ টাকা করে বিক্রি করেন। তাতে মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ থাকে। ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে খরচ নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র গোবর ক্রয় করতে হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করতে হলে প্রথমে একটি উপযুক্ত পাত্রে গোবরের স্তূপ করতে হয়। এরপর তাতে বিশেষ ধরনের লাল কেঁচো ছেড়ে দিতে হয়। কেঁচোগুলো পাত্রের গোবর খেয়ে মল ত্যাগ করে। কিছুদিন পরে তা চালুনি দিয়ে ছেঁকে কেঁচো আলাদা করে বস্তাভর্তি করা হয়। এভাবে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদিত হয়।'
তিনি আরো বলেন, 'ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে ব্যবহৃত বিশেষ কেঁচো থাইল্যান্ড থেকে আনা। ওই কেঁচো আকারে ছোট। আমাদের এনজিও (এসডিসি) থাইল্যান্ড থেকে ওই কেঁচো এনে ভার্মি কম্পোস্টের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। প্রত্যেক কৃষককে ২৫০-৩০০ গ্রাম করে কেঁচো দেওয়া হয়েছে।'
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির (এসডিসি) সহকারী পরিচালক কাজী হাসান ফিরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'ভার্মি কম্পোস্ট মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, গাছের পুষ্টি জোগায় ও দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। ভার্মি কম্পোস্ট ক্ষতিকর কীট ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি একটি পরিবেশবান্ধব সার, যা ফসলের ফলন ও গুণগত মান বৃদ্ধি করে।'
মানিকগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন এস এম আব্দুল মান্নান