ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে নৌসামরিক চাপ বাড়ানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছে চীন ও রাশিয়া। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই বিষয়ে মন্তব্য করে দেশ দুইটি।
চীন অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নৌচলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে। বেইজিংয়ের মতে, এসব পদক্ষেপ একতরফা জবরদস্তির শামিল, যা গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। মাদকবিরোধী অভিযানের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করে চীন সতর্ক করেছে, এই ধরনের কার্যক্রম বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বিপদজনক নজির সৃষ্টি করবে।
ভেনেজুয়েলার অনুরোধে এবং চীন ও রাশিয়ার সমর্থনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং তেল রপ্তানি জাহাজ আটকানোর মাধ্যমে সামুদ্রিক অভিযান জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর সম্পূর্ণ অবরোধ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন এবং জব্দ করা তেল যুক্তরাষ্ট্রের মজুদে যুক্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রাশিয়া চীনের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে 'কাউবয়-সুলভ' বলে আখ্যা দেয় এবং বলে, এই অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের তাগিদ দিয়েছে।
এই বিরোধের প্রভাব ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরেও পড়েছে। কারাকাসে দেশটির জাতীয় পরিষদে নৌ অবরোধ সমর্থনকে জলদস্যুতা হিসেবে বর্ণনা করছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের প্রস্তাবও রয়েছে।
