নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: সৈয়দ সুলতান

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২৩ পিএম

পোশাক খাতে কাজ করা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পোশাক খাতে কাজ করতে ২০ লক্ষ নারী গ্রাম থেকে শহর আসে। ৩০ বছরের জন্য যে নারী শ্রমিকরা আসে তাদের নিরাপত্তার জন্য সরকার কি পদক্ষেপ নিয়েছে বা আমাদের শহর তাদের জন্য প্রস্তুত কিনা তা আমরা কখনোই ভাবিনি।’

‘ন্যায্য মজুরি: অধিকার ও দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক একটি মত বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যায্য মজুরি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে মজুরির সামঞ্জস্য এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থা এই সভায় আয়োজন করেছে। 

অনুষ্ঠানে সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ বলেন, শ্রমিক এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল নেই, ডে কেয়ার সেন্টার নেই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। ন্যায্য মজুরিও নিশ্চিত হয় না।

তিনি আরও বলেন, 'অনেক শ্রমিককেই নিজের সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখে আসতে হয়। যে বেতন পায় তা দিয়ে হয়তো সন্তানের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে কিন্তু সেই সন্তান রাখবে কোথায় সেই জায়গাই তো নেই। এই অবস্থায় একজন শ্রমিক থেকে উৎপাদনশীলতা আমরা কিভাবে পাবো। শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে ও জীবনমান উন্নয়নে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন খুবই জরুরি।

সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম বলেন, ‘শ্রম আইনের সর্বশেষ সংশোধনীতে বাধ্যতামূলক ভবিষ্যৎ তহবিল প্রবর্তন এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধা ১১২দিন থেকে ১২০দিন বৃদ্ধি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে, এই সংস্কারগুলি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পর্যাপ্ত মজুরির অভাবে, ভবিষ্যৎ তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এছাড়াও, মাতৃত্ব কালীন সুবিধা গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন গর্ভবতী শ্রমিকদের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’

বিকেএমিএ পরিচালক ইন্জিনিয়ার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দিতে চাই। কিন্তু এই ন্যায্য মজুরির দাবি তোলার আগেই অনেক কিছুই হয়ে যায়। যদি ঠিকমতো ন্যায্য মজুরির দানি উপস্থাপন করা হয় তাহলে আমরা দিতে প্রস্তুত।

তবে এক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতার প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ৩০/৪০টা সরকারি তদারকি প্রতিষ্ঠানের কারণে কারখানা মালিকরা তটস্থ থাকে। বিভিন্ন সরকারি অফিসে অফিসে ঘুরতে হয়। বছর বছর বিভিন্ন ফি বাড়িয়ে দেয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা। ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা। 

সভায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. তাইমুম ইসলাম বলেন, সরকারি ছোট কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে।  ব্যবসায় বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করছে। 

শ্রমিকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘পরিদর্শন অধিদপ্তর টোল ফ্রি টেলিফোন নম্বর চালু করেছে।  এই নম্বরে শ্রমিকরা নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরিসহ যে কোন অভিযোগ জানাতে পারবেন। এবং দ্রুত সমাধানও করছি আমরা।’

সভায় বক্তাদের মধ্য আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী নাজমা আক্তার, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত