ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) থেকে ঋণ খেলাপি হিসেবে নাম বাদ দিতে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার রিট আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। বুধবার বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্না অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে মান্না আপিল বিভাগে যাবেন কি না, এবং আপিল বিভাগের কি সিদ্ধান্ত আসে তার ওপর তার নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।
আদালতে মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঋণের দুই শতাংশ হারে কিছু অংশ পরিশোধ করে নাম প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে এসেছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। কিন্তু হাইকোর্ট তাতে সন্তুষ্ট হননি।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু ইসলামী ব্যাংকের চিঠির আলোকে সিআইবির তালিকায় উনার নাম এসেছে তাই হাইকোর্ট বলেছেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইসলামী ব্যাংককেই বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠাতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে হাইকোর্ট সরাসরি কোনো আদেশ দিতে আগ্রহী নন।’
তিনি আরও বলেন, ‘উনার (মান্না) নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া নির্ভর করছে তিনি আপিল বিভাগে যাবেন কি না তার ওপর।’
অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার তো অধিকার আছে।’
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের কাছে খেলাপি ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ে গত ১০ ডিসেম্বর ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এতে মান্না ও তার দুই অংশীদারকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশসহ এই সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে ব্যাংক জানায়।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী। ব্যাংকের নোটিশে বলা হয়, ২০১০ সালে এ প্রতিষ্ঠানকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ করেনি। এর ধারাবাহিকতায় ঋণ খেলাপির অভিযোগ থেকে নাম বাদ দিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
