জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার জামায়াতে যোগদান

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫২ পিএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাবেক জিএস মো. রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দলের সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

এ সময় আমীরে জামায়াতের উপস্থিতিতে তিনি সংগঠনের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

মো. রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও আদর্শ, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলের অবিচল অবস্থানের প্রতি গভীর আস্থা ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

তিনি ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ, দেশের স্বার্থ এবং স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের অবশিষ্ট সময় ব্যয় করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দলীয় নিয়ম-নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের প্রতি সর্বদা অনুগত থাকার অঙ্গীকার করেন।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁকে আন্তরিকভাবে আলিঙ্গন করেন এবং তাঁর দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, ভৈরব উপজেলা আমীর মাওলানা কবির হোসেন এবং পৌরসভা আমীর শাহজাহান সরকার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি প্রজ্ঞাবান শিক্ষানুরাগী ও সমাজগঠনের নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত। ভৈরব অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। হাজী আসমত কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি ডাকসুর নির্বাচিত নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে কুলিয়ারচর–ভৈরব–কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে সরাসরি অপারেশনে অংশ নেন তিনি।

স্বাধীনতার পর তিনি নিজেকে শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে নিবেদিত করেন। ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ আরবুর রহমান কিন্ডারগার্টেন, মুর্শিদ–মুজিব উচ্চ বিদ্যালয়, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ এবং হালিমা সাদিয়া মহিলা মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পেছনে রয়েছে তাঁর ত্যাগ ও দূরদর্শী অবদান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত