ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় সূর্যের দেখা মেলেনি উপকূলে

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৭ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাসহ উপকূলীয় এলাকায় শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে জবুথুবু অবস্থায় পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সারাদিনে সূর্যের দেখা মেলেনি কলাপাড়ায়।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলে, কৃষক, সবজি চাষি ও দিনমজুররা। শীতের প্রভাব পড়েছে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের মধ্যেও। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

নদী ও সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে হিমেল বাতাসে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে জেলেদের। মহিপুরের জেলে আবদুল মালেক বলেন, সাগরে গেলে ঠাণ্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যায়। কুয়াশার কারণে দিকনির্দেশনাও ঠিকমতো বোঝা যায় না। তবুও সংসারের জন্য ঝুঁকি নিয়েই নামতে হচ্ছে।

কৃষকরাও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। লতাচাপলি ইউনিয়নের কৃষক রহিম হাওলাদার বলেন, শীত বেশি হলে সবজির গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। কুয়াশা থাকায় রোগবালাইয়ের ভয়ও বাড়ছে। ফলন ঠিক থাকবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। 

সবজি চাষিরাও একই কথা জানান। তাদের মতে, সূর্যের আলো না থাকলে জমিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হয়, যা ফসলের জন্য ক্ষতিকর।

শীতের প্রভাব পড়েছে পর্যটন নগরী কুয়াকাটায়ও। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক পর্যটক সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার আশা নিয়ে এলেও কুয়াশার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

ঢাকায় থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, কুয়াকাটার সূর্যাস্ত দেখার জন্য এসেছিলাম, কিন্তু দু’দিনেও সূর্যের দেখা পেলাম না একটু হতাশ লাগছে।

অন্যদিকে তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত রোগ বেড়েছে। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, ডিসেম্বর মাসজুড়েই ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস চলমান থাকবে। কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। তবে দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিলতে পারে। এমন আবহাওয়া আরও কয়েকদিন চলমান থাকবে।

তিনি আরও জানান, আজ জেলার কলাপাড়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপকূলবাসীকে শীত থেকে বাঁচতে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত