কেরানীগঞ্জে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ক্রয় প্রকল্পে হরিলুটের অভিযোগ

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০১ পিএম

কোথাও আগুন লাগলে সেটা নিভানোর জন্য ব্যবহৃত ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রটির দাম বাজারে ৯০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যই। সেই যন্ত্রই ঢাকার কেরানীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদভিত্তিক প্রকল্পে কেনা হয়েছে প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে।

১২টি ইউনিয়নে মোট ১৮ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে কেনা হয়েছে মাত্র ১৫০টির মতো ফায়ার এক্সটিংগুইশার— যার প্রকৃত বাজারমূল্য দুই লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। ফলে আগুন থেকে রক্ষার নামে প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরান ঢাকার নবাবপুরে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে ৫ কেজির এবিসি ফায়ার এক্সটিংগুইশার ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় এবং সিওটু এক্সটিংগুইশার প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়।

অথচ কেরানীগঞ্জ উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে দেড় লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে কেনা হয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২টি করে ৫ কেজির ফায়ার এক্সটিংগুইশার। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি যন্ত্রের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

দেশ রূপান্তর এর হাতে আসা তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে টিআর কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় ধাপে কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র স্থাপন বাবদ দেড় লাখ টাকা করে ১২টি ইউনিয়নে মোট ১৮ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়।

তবে সরেজমিনে কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ভবনে ১০-১২টি ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছাড়া অন্য কোনো অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই।

এ বিষয়ে বাস্তা ইউনিয়নের সচিব মো. মোস্তফা বলেন, ‘আমরা ১২টি ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছাড়া আর কিছু পাইনি। বরাদ্দের পরিমাণ অনুযায়ী সরঞ্জাম আসেনি। বিষয়টি উপজেলা পিআইও অফিস ভালো বলতে পারবে।’

শুভাঢ্য ইউনিয়নের প্রশাসক সাত্তার বেগ জানান, তাদের ইউনিয়নে ১০টি ফায়ার এক্সটিংগুইশার দেওয়া হয়েছে। দেড় লাখ টাকার হিসাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি উপজেলা প্রকল্প অফিসের মাধ্যমে করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের কোনো টেন্ডার বা ক্রয় প্রক্রিয়া ছিল না।’

কালিন্দি ইউনিয়নের প্রশাসক নুরুন নাহার এবং কোন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইফতেখারুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তারা জানান, পুরো প্রকল্পটি উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়েছে।

এক্সটিংগুইশার কেনা হয়েছে পুরান ঢাকার নবাবপুরের ‘এ আর কে ফায়ার ফাইটিং ম্যানুফ্যাকচার’– এ গিয়ে কথা বললে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, তাদের ৫ কেজির এবিসি এক্সটিংগুইশারের দাম ৯০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যেই থাকে এবং সিওটু এক্সটিংগুইশারের দাম প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। বাজারদরের খুব বেশি ওঠানামা হয় না বলেও তারা নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাশেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

সদ্য যোগদানকৃত কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে কথা বলব।’

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও এ ধরনের প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ লোপাটের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত