শেরপুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:২৮ পিএম

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের দামুয়া গ্রামে ওয়ারিশি সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, মৃত ছইমুদ্দিনের ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি সমবণ্টন না হওয়ায় বাক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ ও তার পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাড়ির মোট জমি ৩০ শতাংশ হলেও আব্দুল মজিদকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। বাকি জমি তার দুই ভাই—আব্দুর রশিদ (৫০) ও রফিকুল ইসলাম (৪৮) ভোগদখলে রেখেছেন। এছাড়া ভিটা জমির ক্ষেত্রে অভিযোগকারী আব্দুর মজিদের নামে রয়েছে ৩৭ শতক এবং রফিকুল ইসলামের নামে ৫৬ শতক। ধানি জমির মধ্যে আব্দুল মজিদের নামে ১৪০ শতাংশ থাকলেও আব্দুর রশিদের নামে ১০৪ শতাংশ ও রফিকুল ইসলামের নামে ১০১ শতাংশ জমি রয়েছে। এসব সম্পত্তির সমবণ্টনের দাবি জানিয়ে আসছেন আব্দুল মজিদ।

এ বিষয়ে একাধিকবার গ্রামে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান। 

বাক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদের স্ত্রী রেহেনা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী ২০২০ সালে প্রথম ব্রেন স্ট্রোক করেন। জমি থেকে বঞ্চিত হওয়ার মানসিক চাপে পরবর্তীতে আরও দুইবার স্ট্রোক হয়েছে। আমরা জমিতে যেতে চাইলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। অর্থাভাবে তার চিকিৎসাও ঠিকমতো করাতে পারছি না। আমরা শুধু আমার স্বামীর ন্যায্য প্রাপ্য চাই।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে শেরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, শ্বশুরের মৃত্যুর পর দলিলকৃত সম্পত্তির ওয়ারিশ হিসেবে আব্দুল মজিদের যে অংশ পাওয়ার কথা, তা এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাদের জমিতে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়াও ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও সরকারি রাস্তা কর্তন করে পুকুর খননের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

আব্দুল মজিদের মেয়ে মারিয়া আফরিন মিম বলেন, “আমরা ঢাকায় থাকি। আমি ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, সামনে টেস্ট পরীক্ষা। জমি সংক্রান্ত এই বিরোধের কারণে আমার পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা চাই, বাবার প্রাপ্য সম্পত্তি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে আব্দুল মজিদের শ্যালক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আমার বোনজামাই বাক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ হওয়ার সুযোগ নিয়ে তার ভাইয়েরা অন্যায়ভাবে জমি দখল করে রেখেছে। আমরা ন্যায্য বিচার চাই।”

জমি লিজ নেওয়া সুমন বলেন, “আমি আব্দুল মজিদের কাছ থেকে জমি সনপর্তন নেই। কিন্তু আব্দুর রশিদ ও তার ভাতিজা আমাকে জমিতে যেতে নিষেধ করে। এরপর আর যাইনি।” একই অভিযোগ করেন আরেক লিজগ্রহীতা জামদালি।

অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা মৌখিকভাবে বণ্টননামা করেছিলাম, তবে কোনো আইনি বণ্টননামা নেই। সালিশ বৈঠকেও সমাধান হয়নি। দাবি করা জায়গার পরিবর্তে আমরা অন্য জায়গা থেকে তাদের সম্পত্তি দিয়েছি। 

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় মূলত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তবে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

সরকারি রাস্তায় পুকুর কর্তন বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট স্থানে সকল ধরনের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত