ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ আরও বাড়াতে দেশটির তেল খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্ত চারটি কোম্পানি এবং সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বেড়েছে। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও ক্যারিবীয় সাগরে তথাকথিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দুই ডজনেরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জলসীমায় আসা-যাওয়া করা সব নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেন। এর ফলে দেশটির তেল রপ্তানি গত নভেম্বরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদুরো সরকারকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা তেল ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা চারটি ট্যাংকারের মধ্যে কয়েকটিকে ছায়া বহরের অংশ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে ‘ছায়া বহর’ বলা হয়। এসব জাহাজের মালিকানা অস্পষ্ট থাকে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এদের বীমা সুবিধাও থাকে না। ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, যারা ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে পানামার পতাকাবাহী ‘নর্ড স্টার’, গিনির পতাকাবাহী ‘লুনার টাইড’ এবং হংকংয়ের পতাকাবাহী ‘ডেলা’। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় জ¦ালানি সংস্থা পিডিভিএসএর নথি অনুযায়ী, এই জাহাজগুলো এ বছর এশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে তেল পরিবহন করেছে। এ ছাড়া অ্যারিস গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের মালিকানাধীন হংকংয়ের সুপারট্যাংকার ‘ভ্যালিয়ান্ট’-এর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মাদুরোর অবৈধ সরকারকে তেল রপ্তানি করে মুনাফা করতে দেওয়া হবে না।
