অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য দেওয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি।
শনিবার বিকালে দপ্তর সম্পাদক শাহাদত হোসেনের স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশে একথা জানানো হয়। একই সাথে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সাথে আলাপ করার সময় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য দেওয়ায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গে কোনভাবেই সামঞ্জস্য নয় এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে জানিয়ে নোটিশে আরও বলা হয় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি কেন এধরনের বক্তব্য প্রদান করেছেন তার সুস্পষ্ট জবাব দিতে হবে।
উল্লেখ্য, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
নয়নকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার নেতা-কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী ওসির কক্ষে অবস্থান নেন। তারা দাবি করেন, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে জড়িত হন। তারা নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন।
আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে একপর্যায়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সঙ্গে তর্কে জড়ান মাহদী। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় মাহদী ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে আপনি (ওসি) কোন সাহসে ‘আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে’ বললেন। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন।
খবর পেয়ে শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তার মধ্যস্থতায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি। ক্ষুদেবার্তার জবাবও দেননি।
এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘আটক হওয়া ছাত্র নেতা একসময় ছাত্রলীগ করলেও তিনি জুলাই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। শুধু তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসে। শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আগেও আমাদের তিন নেতা-কর্মীকে আটক করেছিল।
বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দেওয়া ও পুলিশকে পুড়িয়ে ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন এটি স্লিপ অব টাং। তিনি কেন্দ্র থেকে কারণ দর্শনোর নোটিশ পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনার বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘এখানে আমাদের কোনো অপরাধ ছিল না। আটকের পর যা হয়েছে, তা দেশবাসী দেখেছেন। সবার হাতে হাতে সে ভিডিও প্রচার হয়েছে। তারাই ভিডিও করেছে, আবার তারাই ছেড়েছে। এ সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ অপরাধ করে থাকলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’
ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা তাকে (এনামুল) বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় সন্দেহভাজন ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আটক করি। ওই দিন রাত বেশি হওয়ায় আমরা যাচাই-বাছাই করতে পারিনি। পরদিন নানাভাবে তথ্য নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, আটক হওয়া ব্যক্তি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। পরে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
