লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা এদমুন্দো গনসালেস। তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট রক্ষা করে যেন তারা ক্ষমতার রদবদলে ভূমিকা রাখে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় গনসালেস বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতা ‘দখল করে’ ছিলেন, তিনি এখন আর ক্ষমতায় নেই এবং বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে এটিকে তিনি কেবল একটি ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের সামনে এখনো আরও বড় ও মৌলিক কাজ বাকি রয়েছে।
২০২৪ সালের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনেকেই এদমুন্দো গনসালেসকে প্রকৃত বিজয়ী বলে মনে করেন। মার্কিন সামরিক অভিযানের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। গনসালেস বলেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। তাঁর মতে, জুলাইয়ের নির্বাচনে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা রক্ষার দায় সেনাবাহিনীর ওপর বর্তায়।
একই সঙ্গে তিনি সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশেও বার্তা দেন। গনসালেস বলেন, সংবিধান ও প্রজাতন্ত্রের প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে— ভেনেজুয়েলার জন্য প্রয়োজন সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার এবং পুনর্মিলন; তবে কোনো ধরনের দণ্ডমুক্তির সুযোগ রাখা যাবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত অঙ্গনেও ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট ঘটনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্ডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। সেখানে মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইউএস কোড ৮৪১-এর আওতায় নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি কোকেন বিতরণ বা বিতরণের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হলে ন্যূনতম ১০ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। আবার কর্নেল ল’ স্কুলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইউএস কোড ৯৬০-এর আওতায় মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দণ্ডিত হলে এই শাস্তির মেয়াদ আরও বেড়ে যেতে পারে, যেখানে ন্যূনতম কারাদণ্ড কমপক্ষে ২০ বছর হতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘোষণার সময়কাল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত সামরিক অভিযানের মধ্যে ঐতিহাসিক মিল রয়েছে। তাঁদের মতে, ১৯৮৯ সালে পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগার পতনের ঘটনাটি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টানছে।
সে সময় নরিয়েগার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৯২ সালে একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর বাড়ছে।
নাইজেরিয়ায় মার্কেটে বন্দুক হামলা, নিহত ৩০
সচিবালয় ও যমুনা এলাকায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ