সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) পঞ্চম অ্যাশেজ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মার্নাস লাবুশেন ও বেন স্টোকসের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা ছড়ায়। দিনের শেষ ভাগে কথার লড়াইয়ে জড়ালেও শেষ পর্যন্ত মাঠের ভেতরে চূড়ান্ত জবাবটা দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্টোকসই—লাবুশেনকে ৪৮ রানে আউট করে।
ঘটনাটি ঘটে ২৯তম ওভারের শেষে। ওই ওভারে ট্রাভিস হেডের টানা দুটি বাউন্ডারিতে চাপে পড়েন স্টোকস। ঠিক কী কারণে বাক্যবিনিময় শুরু হয়, তা স্পষ্ট নয়—তবে ফিকে আলো নিয়ে কোনো মন্তব্য থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। ফিল্ডিং পজিশনে ফেরার সময় স্টোকসকে লাবুশেনের উদ্দেশে “শাট দ্য ফ*** আপ” বলতে দেখা যায়। এরপর স্টোকস এগিয়ে গিয়ে লাবুশেনের কাঁধে হাত রাখেন, তখন আম্পায়ার আহসান রাজাও সেখানে চলে আসেন।
এই দৃশ্য নিয়ে কায়ো স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন, “হয়তো পঞ্চম টেস্ট, সবাই ক্লান্ত—তাই একটু উত্তেজনা। মনে হচ্ছিল কথা কাটাকাটি শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু হঠাৎই স্টোকস আবার ফিরে এসে মার্নাসের কাঁধে হাত রাখে। এটা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা ছিল নাকি আরও উত্তেজনা—তা বোঝা কঠিন। তবে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে এভাবে স্পর্শ করা কি ঠিক?”
উত্তেজনার কয়েক বল পরই স্টোকসের পরের ওভারে আবার মুখোমুখি হন লাবুশেন। ড্রাইভ খেলতে গিয়ে মোটা বাইরের এজে গালিতে জ্যাকব বেথেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অজি ব্যাটার। ৪৮ রানে থামে তাঁর ইনিংস। আউটের পর স্টোকস লাবুশেনের দিকে তাকালেও আর কোনো কথা হয়নি।
নাইটওয়াচার হিসেবে নামা মাইকেল নেসার ঘটনার বিষয়ে জানতেন না। পরে তিনি বলেন, “আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমি নিজের ব্যাটিং নিয়েই চিন্তায় ছিলাম।” লাবুশেনের প্রতিযোগিতামনস্কতা নিয়ে নেসার যোগ করেন, “ওর একটা ক্ষমতা আছে—প্রতিপক্ষকে বিরক্ত করে তোলার। সে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলোয়াড়, এটাই মার্নাস।”
এর আগে দিনের শুরুতে বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন লাবুশেন। শর্ট বলের ফাঁদে ফেলে জেমি স্মিথকে আউট করেন তিনি, যা ছিল জো রুটের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটি ভাঙার মুহূর্ত। টেস্ট ক্রিকেটে মিডিয়াম পেসে এটি ছিল লাবুশেনের প্রথম উইকেট; এর আগে লেগস্পিনে পেয়েছিলেন ১২টি উইকেট।
নেসার বলেন, “ও বোলিং করতে ভালোবাসে। শিল্ড ক্রিকেটে আমরা এটা বহুবার দেখেছি। শর্ট বল করে উইকেট নেওয়াটা কোনো কাকতাল নয়—ও এটা অনুশীলন করেছে। মার্নাসের দ্রুত বল সত্যিই দ্রুত—১৩০ কিলোমিটার গতির কাছাকাছি, আবার ১১২ থেকে ১৩০-এর মধ্যে গতি বদলায়। তাই ও যখন এমন করে, ব্যাটারদের পড়তে বেশ কঠিন হয়।”
এর আগে জো রুটের ৪১তম টেস্ট সেঞ্চুরির (১৬০ রান) উপর ভর করে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করে ৩৮৪। জবাবে ২ উইকেটে ১৬৬ রান তুলে দিন শেষ করেন অস্ট্রেলিয়া।ট্রাভিস হেড ছিলেন দিনের নায়ক—৮৭ বলে অপরাজিত ৯১ আছেন।
যেখানে মোস্তাফিজের সম্মান নাই, সেই খেলা দেখারও দরকার নাই: পাইলট