জীবিকার তাগিদে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে বাড়ি ছেড়ে প্রবাসে যান মাদারীপুরের যুবক সজিব বেপারী। তবে শুধু ভাগ্যই নয়, মাত্র এক বছরের প্রেমের সম্পর্কে সংসারের চাকাও ঘুরে গেছে তার। দীর্ঘ সাত বছর পর বিদেশী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়িতে উঠেছে বাংলাদেশী ওই যুবক।
ভালবাসার টানে শ্বশুর বাড়ি দেখতে ছুটে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মাহেরা দত্তএ। তাকে দেখতে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাউতলী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মিন্টু বেপারীর বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার উৎসুক মানুষ। সজিব ওই গ্রামের মিন্টু বেপারী ও লিপি বেগম দম্পত্তির বড় ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ৭ বছর আগে দক্ষিন আফ্রিকায় পাড়ি জমান সজিব বেপারী। কেপটাউন সিটির আলেকজান্ডার এলাকায় সুপারশপের ব্যবসা শুরু করেন এই বাংলাদেশী যুবক। ৪ বছর আগে পরিচয় সেখানকার তরুনী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মাহেরা দত্তএ’র সাথে। পরে দুইজনের মধ্যে গড়ে ওঠে সখ্যতা। এরপর প্রেম গড়ায় বিয়েতে।
২০২৩ সালের ১৮ জুন-এ দুজনে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন। কোলজুড়ে আসে এক মেয়ে সন্তান। সম্প্রতি শ্বশুরবাড়ি দেখতে মাহেরা স্বামী ও কন্যা নিয়ে আসেন বাংলাদেশে। দেশে আসলে পরিবার সজীব ও মাহেরার বিবাহত্তোর অনুষ্ঠান করে। গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে বৌভাত সবই ছিল আয়োজনে। এই আনন্দঘন পরিবেশ দেখে মুগ্ধ দক্ষিন আফ্রিকার তরুনী। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও এই দেশের মানুষের প্রতি ভাল লাগার কথা। এদিকে সজীবের পরিবারও খুশি বিদেশি এমন পুত্রবধূ পেয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক ইঞ্জিনিয়ার মাহেরা দত্তএ বলেন, সজীব খুবই ভাল ছেলে। ওর সাথে কথা বলে আমার বেশ আনন্দ হতো। এরপর প্রেমে পড়ে যাই। পরিবার অনুমতি দিলে দুজনের বিয়ে হয়। আমার সংসার আলোকিত করতে কন্যা সন্তান আসে। আর বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই আন্তরিক ও ভাল মনের।
প্রবাসী সজীব বেপারী জানান, বিদেশে থাকার সুবাধে বিদেশি নাগরিকের সাথে প্রেম হয়। ভাললাগা থেকেই তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। মাহেরার বাবা ফ্রান্স প্রবাসী আর একটি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার। সবকিছু মিলিয়ে বিয়ে এবং অনুষ্ঠান খুবই আনন্দে কেটেছে।
সজীবের মা লিপি বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম পুত্রবধূ কেমন হয়! কিন্তু বাড়িতে আসার পর সেই ধারণা পাল্টে গেছে। অল্প অল্প বাংলা বুঝে, ইশারায় সে বাকিটা বুঝে নেয়। আমাদের সাথে ভালই আনন্দে আছে।
সজীবের বাবা মিন্টু বেপারী বলেন, পুত্র ও পুত্রবধূর জন্য সবাই দোয়া করবেন। সবার দোয়া পেলে ওরা সারাজীবন ভাল থাকতে পারবে। আমরাও দক্ষিন আফ্রিকায় বেড়াতে যাবো।
