ভারতের কেরালার আলাপ্পুঝা জেলার রাস্তায় ভিক্ষা করতেন অনিল কিশোর। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন সাধারণ ভিক্ষুক হিসেবেই। তবে মৃত্যুর পর তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী অনিল কিশোর চলতি সপ্তাহের শুরুতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। মৃত্যুর পর তার সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র তল্লাশি করে পুলিশ সাড়ে চার লাখ রুপিরও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করে। উদ্ধার করা টাকার মধ্যে নিষিদ্ধ দুই হাজার রুপির নোটের পাশাপাশি সৌদি রিয়ালও রয়েছে।
চারুম্মূট ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত দেখা যেত কিশোরকে। সোমবার সন্ধ্যায় স্কুটারে চলার সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তিনি নিজের নাম ও একটি স্থানীয় ঠিকানা জানান। চিকিৎসকেরা মাথায় গুরুতর আঘাতের কথা জানিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন।
তবে ওই রাতেই কাউকে না জানিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান তিনি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে কাদাথিন্নাল এলাকার একটি দোকানের সামনে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়।
এদিকে তার সঙ্গে পাওয়া জিনিসপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে পুলিশ চমকপ্রদ তথ্য পায়। স্থানীয় এক পঞ্চায়েত সদস্যের উপস্থিতিতে একটি পাত্র খুলে দেখা হলে প্লাস্টিকের কৌটায় ও টেপে মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। গণনায় দেখা যায়, মোট টাকার পরিমাণ সাড়ে চার লাখ রুপির বেশি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন যারা কিশোরকে দেখতেন, তাদের ভাষ্য, তিনি ভিক্ষা করেই জীবনযাপন করতেন এবং অল্প টাকার জন্য খাবার চাইতেন। তার কাছে এত টাকা বা বিদেশি মুদ্রা থাকতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত তার কোনো স্বজন এগিয়ে এসে মরদেহ বা অর্থের দাবি করেননি। কেউ দাবি না করলে আইন অনুযায়ী উদ্ধার করা অর্থ আদালতে জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অনিল কিশোরের প্রকৃত পরিচয়, অতীত জীবন এবং এই বিপুল অর্থের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
