সা ক্ষা ৎ কা র

একক অভিনয়ের মাধ্যমে প্রতিবার নতুন করে আবিষ্কৃত হচ্ছি

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৯ এএম

চলতি মাসেই তিনটি নাট্যোৎসবে অংশ নিতে যাচ্ছে দস্তয়েভস্কির বিখ্যাত ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে একক নাটক ‘ভাসানে উজান’। অপূর্ব কুমার কু-ুর নাট্যরূপ এবং শুভাশীষ দত্ত তন্ময়ের নির্দেশনায় এ নাটকে একক অভিনয় করেছেন সময়ের আলোচিত অভিনেতা মো. এরশাদ হাসান। দীর্ঘ দুই দশকের নাট্যচর্চা, একক নাটকের অভিজ্ঞতা এবং অভিনয়জীবনের নানা দিক নিয়ে অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীর বিপ্লব

এক মাসে তিনটি নাট্যোৎসবে অংশ নিচ্ছে ‘ভাসানে উজান’। বিষয়টি আপনার কাছে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?

নতুন বছরের শুরুতেই একাধিক নাট্যোৎসবে অংশ নেওয়া যে কোনো অভিনয়শিল্পীর জন্য আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বয়ে আনে। বিশেষ করে ‘ভাসানে উজান’ একটি একক নাটক; যেখানে অভিনেতার দায় ও দায়বদ্ধতা দুটোই অনেক গভীর। ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার থেকে শুরু করে মুন্সীগঞ্জ জেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার তিনটি ভিন্ন ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে দর্শকের মুখোমুখি হতে পারা আমার কাছে সত্যিই বড় অনুপ্রেরণা।

নাট্যোৎসবের দর্শক কি সাধারণ প্রদর্শনীর দর্শকের তুলনায় আলাদা?

নিঃসন্দেহে আলাদা। উৎসবের দর্শক সাধারণত নাটক দেখতে আসে প্রস্তুতি ও আগ্রহ নিয়ে। তারা বেশি মনোযোগী, বিশ্লেষণধর্মী এবং আবেগগতভাবে সংবেদনশীল। একক নাটকে এই দর্শকের প্রতিক্রিয়া সরাসরি অভিনেতার ভেতরে প্রতিধ্বনিত হয়, যা অভিনয়কে আরও গভীর ও সংবেদনশীল করে তোলে।

একক অভিনেতার নিজেকে মঞ্চে উপস্থাপন করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

একক নাটক মানেই এক ধরনের নিঃসঙ্গ অভিযাত্রা। পুরো সময় দর্শককে ধরে রাখার দায়িত্ব একমাত্র অভিনেতার ওপরই বর্তায়। ‘ভাসানে উজান’-এ মানসিক দ্বন্দ্ব, অপরাধবোধ ও আত্মসংঘাতের স্তরগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীর। প্রতিটি প্রদর্শনী আমাকে নতুন করে নিজের ভেতর তাকানোর সুযোগ দেয়।

সাহিত্যনির্ভর একক নাটকে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে এলো?

দস্তয়েভস্কির সাহিত্য আমাকে সবসময় মানুষের অন্তর্লোকের দিকে টেনে নেয়। ‘ভাসানে উজান’ আমার কাছে কেবল একটি নাট্যপ্রযোজনা নয়; এটি এক ধরনের আত্মসংলাপের সুযোগ। এই চরিত্রের ভেতরে প্রবেশ করতে গিয়ে বারবার নিজের অচেনা অনুভূতি, অস্বস্তি ও প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। একজন অভিনেতা হিসেবে এই যাত্রা আমাকে ভেতর থেকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনটি ভিন্ন স্থানে একই নাটক মঞ্চস্থ করতে যাওয়ার অনুভূতি কেমন?

প্রতিটি জায়গার দর্শকের মানসিকতা ও প্রতিক্রিয়া আলাদা। শিল্পকলা একাডেমির দর্শক যেমন অভিজ্ঞ ও বিশ্লেষণধর্মী, তেমনি জেলা পর্যায়ের উৎসবে দর্শকের আবেগ অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও সরল। এই বৈচিত্র্যই একজন অভিনেতা হিসেবে আমাকে প্রতিবার নতুনভাবে সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করি।

দুই দশকের চর্চার পরেও একক নাটকের প্রতি আগ্রহের মূল কারণ কী?

একক নাটক আমাকে প্রতিবার নতুন করে শিখতে বাধ্য করে। এখানে কোনো আড়াল নেই, কোনো সহ-অভিনেতার ওপর নির্ভরতার সুযোগও নেই। একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে সবচেয়ে কঠোরভাবে যাচাই করার জায়গা এটি; আর সেই কারণেই একক নাটকের প্রতি আমার টান আজও অটুট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত