আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসন থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করা ১৫টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৮ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে এবং ৭ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মুহাম্মদ খালেদ বিন নাছের, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয় পার্টির সুলতান আহমেদ খান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শরাফাত।
মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে বার্ষিক আয় ও সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী ব্যবসায়ী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নির্বাচনী হলফনামায় তার বার্ষিক আয় হিসেবে ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া নগদ রয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ৮২৭ টাকা এবং স্থায়ী আমানত ৮ লাখ টাকার। তিনি হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩৬ লাখ এবং স্থাবর সম্পদের মূল্য ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্যা নির্বাচনী হলফনামায় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক উল্লেখ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, বাড়িভাড়া, ব্যাংক আমানত ও শিক্ষকতা বাবদ তিনি বছরে ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৬ টাকা আয় করেন। নির্ভরশীলদের আয়ও প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার নিজের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে নগদ ও স্থায়ী আমানত হিসেবে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৪০ হাজার ৩৩১ টাকা জমা রয়েছে। নিজের নামে স্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি, আর স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। নিজের নামে ঢাকার সাভারে ১২টি ফ্ল্যাট, স্ত্রীর নামে সাভারে ২টি ফ্ল্যাট এবং পৈতৃক সূত্রে একটি তিন তলা ভবন আছে। স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষেত্রে প্রার্থীর নিজের ২৫ ভরি এবং স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর হলফনামায় নিজেকে ট্রেড ইউনিয়নিস্ট উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৭০ হাজার ১৪৯ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, তার ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৮ টাকা। তার কৃষিজমির পরিমাণ এক একর ৩০ শতাংশ। অকৃষি জমির মধ্যে রয়েছে ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠা জমি। এছাড়া ঢাকার উত্তরায় ২টি ফ্ল্যাট, বোয়ালমারী ও ময়েনদিয়ায় দুটি বাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ শরাফাত হলফনামায় নিজের পেশা হিসেবে ব্যবসা ও কৃষি উল্লেখ করেছেন। সেখানে তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী তার নগদ অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪ টাকা। জাতীয় পার্টির সুলতান আহম্মেদ খান নির্বাচনী হলফনামায় বার্ষিক আয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯২ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। তার অন্যান্য উৎস থেকেও ৩৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে বলে নির্বাচনী হলফনামা সূত্রে জানা যায়। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মুহাম্মাদ খালিদ বিন নাছেরের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে ১ লাখ ২০ হাজার এবং ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। হলফনামায় তিনি নিজেকে চাকরিজীবী উল্লেখ করেছেন। তার নগদ ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪৭ টাকা, স্থায়ী আমানত ৩ লাখ ৯৫ হাজার এবং ২৪ লাখ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল বাসার খানের কৃষি খাতে আয় ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭২০ টাকা, বাড়িভাড়া বাবদ আয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৮০ টাকা, চাকরি থেকে আয় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া মূলধনী আয় জমি ও বাড়ি বিক্রি থেকে ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৯১৬ টাকা। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার নগদ টাকা রয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭ হাজার ৭১১ টাকা, আর স্থায়ী আমানত আছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
