দাপুটে পারফরম্যান্সে ক্যামেরুনকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্বাগতিক মরক্কো। ম্যাচের দুই অর্ধে একটি করে গোল করেন ব্রাহিম দিয়াজ ও ইসমাইল সাইবারি। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির পুরো ৯০ মিনিট খেলা মরক্কোর জন্য বাড়তি স্বস্তি এনে দিয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর এটি ছিল তার দ্বিতীয় পূর্ণ ম্যাচ।
রাবাতের প্রিন্স মৌলায়ে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে ‘আতলাস লায়ন্স’রা। প্রথমার্ধের ২৬ মিনিটে কর্নার থেকে আয়ুব এল কাবির হেডার ফ্লিকের পর কাছ থেকে উরুর ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান ব্রাহিম দিয়াজ। এটি ছিল চলতি টুর্নামেন্টে তার পঞ্চম গোল। গ্রুপ পর্বে তিনটি এবং শেষ ষোলোয় তানজানিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা দিয়াজের দুর্দান্ত ফর্ম এই ম্যাচেও অব্যাহত থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও মরক্কোর আধিপত্য কমেনি। ৭৪ মিনিটে সেট পিস থেকে আসা আলগা বল সংগ্রহ করে ঠান্ডা মাথায় নিচু বাঁ-পায়ের শটে গোল করেন পিএসভি আইন্দোভেনের উইঙ্গার ইসমাইল সাইবারি। এতে কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। ওয়ালিদ রেগরাগুইর শিষ্যরা পুরো ম্যাচজুড়েই প্রায় কোনো বিপদে পড়েনি। ক্যামেরুন খুব কমই মরক্কোর রক্ষণভাগকে চাপে ফেলতে পেরেছে। পুরো ম্যাচে তারা একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
এই জয়ে মরক্কো ২০০৪ সালের পর প্রথমবার আফকনের সেমিফাইনালে উঠল। এছাড়া এটি তাদের টানা ২৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড, যা শুরু হয়েছিল ২০২৩ আফকনের শেষ ষোলোতে বিদায়ের পর থেকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে উত্তর আফ্রিকার দলগুলোর সমর্থকদের যে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, ঠিক তেমনই পরিবেশ ছিল রাবাতের গ্যালারিতে। ৬৯,৫০০ দর্শক ধারণক্ষম এই আধুনিক স্টেডিয়াম রীতিমতো ভরে উঠেছিল।
মজার বিষয় হলো, আফকনে এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়ে কখনো ক্যামেরুনকে হারাতে পারেনি মরক্কো। সর্বশেষ দুই দলের সাক্ষাৎ হয়েছিল প্রায় ৩৪ বছর আগে। সেই সময়ের পর ক্যামেরুন জিতেছে আরও তিনটি শিরোপা, মোট পাঁচটি; আর মরক্কোর ঝুলিতে ছিল ১৯৭৬ সালের একমাত্র শিরোপা। তবে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও ফুটবল উন্নয়নে বিনিয়োগের ফল হিসেবে এখন শক্তির ভারসাম্য স্পষ্টভাবেই মরক্কোর দিকে ঝুঁকেছে।
সাবেক চেলসি ফুটবলারের মর্মস্পর্শী বার্তা ‘আমার হাতে আর কয়েকদিন বাকি’
পরিবর্তনে রাজি ম্যাককালাম, তবে ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ